বান্দরবানের দুর্গম এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

কটেজ নির্মাণের পর দেয়া হলো দুটি গাড়ি

এই দুটি গাড়ির মাধ্যমে আয়ের অর্থ তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিনারুল হক, বান্দরবান

Location :

Bandarban
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গাড়ির চাবি হস্তান্তর করছেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গাড়ির চাবি হস্তান্তর করছেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তজিং ডং পাহাড় সংলগ্ন বম সম্প্রদায়ের একটি পাড়া প্রাতা পাড়া। এখানকার পাহাড়ি জুম চাষি লালরেম বম। তার বাগানে উৎপাদিত ফসল ও নানা ধরনের ফল কখনো পায়ে হেঁটে বা কখনো গাড়িতে করে থানচি উপজেলা সদরে নিয়ে এসে বিক্রি করেন। অনেক সময় গাড়ি না পেলে দুর্গম পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে অনেক কষ্টে থানচি বাজারে আসতে হয় তাকে। তার মতো ওই এলাকার সবক’টি পাড়াতেই একই অবস্থা।

পাকা সড়ক থাকলেও পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থা নেই এই দুর্গম এলাকায়। এই সমস্যা নিরসনে স্থানীয় পাড়ার বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর কাছে দুটি চাঁদের গাড়ির আবেদন করেন। সেনাবাহিনী ওই এলাকার ১২টি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের পাড়ার লোকজনদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে দুটি চাঁদের গাড়ি দেয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) বাকলাই পাড়ার কাছে কাইতন পাড়া স্কুল মাঠে গাড়ি দুটির হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেনাবাহিনীর বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাড়াবাসীদের কাছে এই গাড়ি দুটি হস্তান্তর করেন। এ সময় তার সাথে ১৬ ইপিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম, বলি পাড়া বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ইয়াসিন আরাফাত হোসেন, থানচি ইউএনও আব্দুল্লাহ আল ফয়সালসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গাড়ি দুটি পেয়ে পাড়াবাসীরা খুবই খুশি। বিশেষ করে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সময়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও অভিযানের কারণে এসব এলাকার তিন হাজারেরও বেশি বম সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ পার্শ্ববর্তী মিজোরামে পালিয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসায় অধিকাংশ বম সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ তাদের পাড়ায় ফিরে এসেছে।

এদের পুর্নবাসন ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নে তারাও এই সুবিধার অংশ পাচ্ছে। তাদের পাড়ায় উৎপাদিত জুমের ফসল ও নানা ধরনের ফল-সবজি এখন সহজেই দুর্গম এলাকা থেকে উপজেলা সদরে নিয়ে আসতে পারছে।

এই দুটি গাড়ির মাধ্যমে আয়ের অর্থ তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লাল জার লম বম জানিয়েছেন, তজিংডং পাহাড় সংলগ্ন থানচি ও রুমা উপজেলার ১২টি পাড়ার লোকজন সেনাবাহিনীর দেয়া গাড়ি দুটির মাধ্যমে সুবিধা পাবে। সার্বিকভাবে ওই এলাকার ১৭টি পাড়ার লোকজন এই সুবিধার আওতায় আসবে।

বাসিরাম পাড়ার পাড়া প্রধান জোয়াকিং ত্রিপুরা জানান, গাড়ি দুটির মাধ্যমে এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পর্যায়ক্রমে পাড়ার সবাই মিলে এই অবস্থার আরো উন্নয়ন ঘটাতে পারবে।

সেনাবাহিনীর বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সেনাবাহিনী পাহাড়ে জনসাধারণের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এর অংশ হিসেবেই চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডারের নির্দেশনায় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের আর্তসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ তাদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সার্বিক উন্নয়নে সেনাবাহিনী সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।’