মধুপুরে শালবন পুনরুদ্ধারে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময়

টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শালবন পুনরুদ্ধার ও বনায়ন কার্যক্রমকে জোরদার করতে স্থানীয় জনগণের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

Location :

Madhupur
মধুপুরে শালবন পুনরুদ্ধারে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময়
মধুপুরে শালবন পুনরুদ্ধারে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় |নয়া দিগন্ত

টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শালবন পুনরুদ্ধার ও বনায়ন কার্যক্রমকে জোরদার করতে স্থানীয় জনগণের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইল বন বিভাগের চাড়ালজানি বিট এলাকায় আলোর ভুবন প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন বিভাগের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মধুপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নঈম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, শালবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এ বনকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: জাকির হোসেন সরকার, টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর) রানা দেব, মধুপুর জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন সংরক্ষক রাব্বি রায়হান, রোকসানা জাহান, মধুপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা শালবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বেদখল বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বন রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনোভাবেই বন সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়।

সভায় বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যাপকহারে শালের চারা রোপণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের বন সংরক্ষণে সচেতন করা ও অংশীদার করার ওপর জোর দেয়া হয়।

বক্তারা আরো বলেন, মধুপুর শালবনের যে ঐতিহ্যবাহী রূপ ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য একসময় ছিল, তা পুনরুদ্ধার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মধুপুর শালবন আবারো তার চিরচেনা সবুজ-শ্যামল রূপ ফিরে পাবে। একইসাথে এটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে দেশের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠবে।