গভীর সমুদ্র থেকে মাছধরা ট্রলারের মাধ্যমে অস্ত্র ও ইয়াবার চালান পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে আসার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে পাথরঘাটায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হকের ট্রান্সপোর্ট থেকে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য বন্দর পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে অভিযান পরিচালনা করেন পাথরঘাটা থানার ওসি আব্দুল আলিম।
এনামুল হক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল আউয়ালের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য বন্দরে অভিযানের সময় একটি ট্রান্সপোর্ট কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে ৯ পিস ইয়াবা ও এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে পাশের এনামুল হোসেনের ব্যক্তিগত অফিস কক্ষে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় রামদা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।
তাদের দাবি, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের ছত্রচ্ছায়ায় ওই চক্রের তৎপরতা চললেও সরকার পরিবর্তনের পরও এতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। রাজনৈতিক ও ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যেও ঘাটকেন্দ্রিক মাদক কারবারের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। সমুদ্রগামী মাছধরা ট্রলারকে ব্যবহার করে মাদক ঘাটে আনার পাশাপাশি ঘাটের কিছু অসাধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মাছ পরিবহনের ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তা দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ তাদের।
পাথরঘাটা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল বকর মেছাল জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিএফডিসি মৎস্য ঘাটকে মাদক ব্যবসার নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করে আসা ট্রলার ও ঘাটকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘাটের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল আলীম বলেন, ‘সকাল থেকে মৎস্য ঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হক ইমু পরিচালিত একটি ট্রান্সপোর্ট কার্যালয় থেকে ৯ পিস ইয়াবা ও এক পুরিয়া গাঁজা এবং তারই অফিস কক্ষে অভিযানে একটি দেশীয় রামদা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’



