ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুলিনা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার এবং প্রবাসীর জায়গা-জমির দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, টেটা প্রভৃতিসহ দেশীয় আরো নানা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে বাড়িঘরও ব্যাপক ভাংচুরের শিকার হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের বাচ্চু মাতুব্বর এবং মিরান মাতুব্বর গংদের মধ্যে গ্রাম্য দলাদলি ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গ্রামটিতে অবস্থিত একটি মহিলা মাদরাসার পাশে এক প্রবাসীর জমি মাদরাসার জমি দাবি করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আশরাফ আলী মাতুব্বর জানান, ওই গ্রামে মুফতি মাওলানা শাহাদাত হোসেন শওকত শেখের তত্ত্বাবধানে হযরত সুমাইয়া রা: নামে একটি মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদরাসার পাঠদানের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাশেই থাকা প্রবাসী আশরাফ আলী মাতুব্বরের একটি জমিতে ঘর তুলে মাদরাসার পক্ষ থেকে ভাড়া দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি যথারীতি ঘর তুলে মাদরাসার জন্য ভাড়া দেন। কয়েক মাস ভাড়াও নেন। একপর্যায়ে বাচ্চু মাতুব্বরের পক্ষীয় আশরাফ আলী মাতুব্বর গংদের মধ্যে গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে প্রতিপক্ষ মিরান মাতুব্বর ও শওকত শেখ গংদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা আশরাফ আলী মাতুব্বরের জায়গা নিজেদের দাবি করে ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে বাচ্চু মাতুব্বর ও আশরাফ আলী মাতুব্বর পক্ষীয়দের নামে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় সবাই কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে মিরান মাতুব্বর, শওকত গংরা সংবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে হাবিব, মিজানুরসহ কয়েকজনের বাড়িঘর ভাংচুর করে। এ সময় নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক নারী মারাত্মক আহত হন। ঘটনাটি নিয়ে বাচ্চু মাতুব্বর গংরা কোর্টের হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসে বাড়িঘরে ভাংচুরের খবরে উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে থাকে। বিকেলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয় পক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর ও অন্তত ৫ জন আহত হয়।
খবর পেয়ে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভাঙ্গা থানা পুলিশ মিরান নামে একজনকে আটক করেছে।



