সোনালি স্বপ্নে কালো ছায়া, বিপর্যস্ত রাঙ্গাবালীর কৃষক

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে মুগডাল এবং ১ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ মুগডাল ইতোমধ্যে মাঠ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ফসল এখনো মাঠে রয়েছে।

রবিন আহম্মেদ, পায়রা বন্দর (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali
সোনালি স্বপ্নে কালো ছায়া, বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙ্গাবালীর হাজারো কৃষক
সোনালি স্বপ্নে কালো ছায়া, বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙ্গাবালীর হাজারো কৃষক |নয়া দিগন্ত

‎পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মুগডাল তোলার মৌসুম শুরুর আগ মুহূর্তে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) ও আজ বুধবার সকাল থেকে থেমে থেমে হওয়া ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পানি জমে যাওয়ায় পাকা মুগডালসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য ঘরে তোলা নিয়ে ভয়াবহ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক জমির মুগডাল ইতোমধ্যে পেকে গেছে। কিছু কৃষক ফসল তোলার প্রস্তুতি নিলেও হঠাৎ বৃষ্টিতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় কোথাও কোথাও ফসলের ক্ষতি শুরু হয়েছে। নিচু এলাকার কিছু জমির ফসল ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে সম্ভাব্য আরো ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

‎রাঙ্গাবালী সদরের সেনের হাওলা এলাকার কৃষক খোকন সিকদার জানান, তিনি ১৬ বিঘা জমিতে মুগডালের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে তিন মণ ডাল ঘরে তুলতে পারলেও বেশির ভাগ ফসল এখনো মাঠে রয়েছে।

তিনি বলেন, মুগডাল পুরোপুরি পেকে গেছে। কিন্তু জমিতে পানি জমে থাকায় এখন ফসল তোলা সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া ভালো হলে কিছু ডাল তোলা যাবে। তবে আকস্মিক বৃষ্টিতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।

‎একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন হাপুয়াখালী এলাকার কৃষক ইসমাইল প্যাদা। তিনি বলেন, ৮ থেকে ১০ বিঘা জমিতে মুগডালসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে দুই থেকে তিন বিঘার ফসল ঘরে তুলতে পারলেও কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে বাকি জমির বেশির ভাগ ফসল ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।

‎তিনি আরো বলেন, ফসল ঘরে তোলার সময় এমন বৃষ্টি কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, যারা আছে তারা বেশি টাকা দাবি করছে। এখন কিভাবে ফসল তুলবো, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

‎ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী গ্রামের কৃষক মো: আবু তাহের ব্যাপারী বলেন, এ বছর মুগডালের ফলন ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে।

‎বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা গ্রামের কৃষক মো: আবুল বাশার আকন বলেন, চলতি মৌসুমে মুগডাল ও বাদামের আবাদ ভালো হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এখন ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে মুগডাল এবং ১ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ মুগডাল ইতোমধ্যে মাঠ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ফসল এখনো মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে বাদামের বেশির ভাগ ফসল এখনো মাঠে থাকায় চাষিদের উদ্বেগ বেড়েছে।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, যেসব মুগডাল ৮০ শতাংশের বেশি পরিপক্ব হয়েছে, সেগুলো গাছসহ দ্রুত তুলে ফেলতে হবে। এতে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হবে।

‎তিনি আরো বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ফসল কিছুটা রক্ষা পাবে। তবে দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে গাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‎সুইচগেট দিয়ে পানি ওঠানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ ধরনের সমস্যায় কৃষকদের প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও চেয়ারম্যানদের সাথে পরামর্শ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব না হলে প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। একইসাথে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কৃষকদের আহ্বান জানিয়েছেন।

‎বছরের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য ঘরে তোলার এই সময়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন রাঙ্গাবালীর হাজারো কৃষক।