বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর বাসটি উঠে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনেরই নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোঁড় মধ্যপাড়ার বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদার পাড়ার নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাটের কালাই থানার মো: আনারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবি থানার আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাইদ (৪৫), একই উপজেলার নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো: তাজিমুল (৪৭)।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নিতে যান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার মনোয়ারুল কাদির বিটু।
হাসপাতালের পরিচালককে সাথে নিয়ে রোগীদের দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই এক্সিডেন্টের খবরে অনেক উদ্বিগ্ন। আমি খবর পেয়েই দ্রুত এখানে ছুটে এসেছি। আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আইসিইউতে থাকা একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক আরো জানান, ‘যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, দেয়া হয়েছে। ওষুধপত্র যা লাগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দেখবে এবং রক্তের প্রয়োজন হলেও সেটার জোগান এখান থেকে দেয়া হবে। প্রয়োজন অনুসারে রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথেও কথা হয়েছে, তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।’
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বাসসকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা দেয় এবং পরে শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।’
‘এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা যান। এ ঘটনায় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে সওজ কর্তৃপক্ষ স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু করায় স্থানীয়রা সড়ক ছেড়ে দেন। বর্তমানে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।’
ওসি আরো জানান, ‘দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো: তৌফিকুর রহমান হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন।
একইসাথে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সূত্র : বাসস



