ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ

ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে গন্তব্যের পথে রওনা হচ্ছেন। রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থামানো যাচ্ছে না।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
গৌরীপুর স্টেশন থেকে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ফিরছেন যাত্রীরা
গৌরীপুর স্টেশন থেকে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ফিরছেন যাত্রীরা |নয়া দিগন্ত

ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন রেলস্টেশনে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে গন্তব্যের পথে রওনা হচ্ছেন। রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থামানো যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী ট্রেনগুলোতে এমন চিত্র দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গৌরীপুর জংশন স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোহনগঞ্জ-ঢাকাগামী ট্রেনের অপেক্ষায় শত শত যাত্রী প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছেন। ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করার সাথে সাথেই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ওঠার চেষ্টা করেন। ভেতরে জায়গা না পেয়ে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুদেরও মই বেয়ে ছাদে উঠতে দেখা যায়।

এ সময় রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা মাইকিং করে যাত্রীদের ছাদে ভ্রমণ না করার জন্য বারবার সতর্ক করেন। তবে যাত্রীরা সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ছাদে উঠে পড়েন।

জিআরপি ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করছি। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টায় দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকাগামী ট্রেন, সকাল ৯টায় ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, সকাল সাড়ে ১০টায় মোহনগঞ্জ-ঢাকাগামী হাওর এক্সপ্রেস এবং দুপুর দেড়টায় জারিয়া-ঢাকাগামী বলাকা কমিউটার ট্রেন ময়মনসিংহ স্টেশন ত্যাগ করে।

প্রত্যেকটি ট্রেনেই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ট্রেনের দরজাগুলোতে ঝুলে থাকা অবস্থায় অনেক যাত্রীকে করতে দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে ছাদে উঠছেন।

স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীরা জানান, ট্রেনগুলো কিছুটা বিলম্বে আসায় ভোগান্তি আরো বেড়েছে। অনেকেই টিকিট না পেয়ে কিংবা সিট না পেয়ে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্টের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।