ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা হচ্ছে, সাবধান থাকতে হবে

আমরা যেন আবার কোনো অন্ধকারের দিকে চলে না যাই। আমাদের সাবধান থাকতে হবে যেন ভুল করে নিজেদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য সৃষ্টি করে আবার সেই সমস্ত চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ে যাই, যাতে করে দেশ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ এখন একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, আন্দোলন হচ্ছে। কেন যেন মনে হয় দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কিছু সংখ্যক লোক পিছন থেকে কাজ করছে। আসন্ন নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ, এই নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সময় আমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যেন আবার কোনো অন্ধকারের দিকে চলে না যাই। আমাদের সাবধান থাকতে হবে যেন ভুল করে নিজেদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য সৃষ্টি করে আবার সেই সমস্ত চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ে যাই, যাতে করে দেশ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আজ রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদরের মানব কল্যাণ পরিষদ ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত আলেম-ওলামাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ, এই দেশে কোরআন সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেবো না। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি। এই কমিটমেন্ট আমরা আমরা বার বার করে এসেছি। অনেকেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য বলেন আমরা নাকি কোরআন সুন্নাহর আইন চাই না। নাউজুবিল্লাহ। আমরা সবসময়ই কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই থাকতে চাই। আমাদের বংশে সেটা, রক্তের মধ্যে সেটা, আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমি একজন মুসলমান।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সবসময় সত্যের পথে ন্যায়ের পথে আমাদের পরিচালিত করে। আমরা চাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে শান্তিতে আমি আমার ইবাদত করতে পারব। ধর্মচর্চা করতে পারব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আপনারা নির্ধারণ করবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য কারা দেশ পরিচালনা করবে। এই নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে আমরা এমন একটা সময় পার হয়েছি, গত ১৫ বছর ধরে দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে অতি ধনী করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে; বিদেশে টাকা পাচার করে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে গোটা দেশের মানুষকে তারা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাকে আরো চিরস্থায়ী করার জন্য তারা বিভিন্ন রকম আইন পাস করেছে। যে আইনগুলোর জন্য আমরা কথা বলতে পারতাম না। আমাদের কথা বলার স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। পত্রপত্রিকা ও মিডিয়াগুলো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারত না। এমনকি ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্যাতন করেছে, জুলুম করেছে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন শুধুমাত্র দেশে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আলেম উলামাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এমনকি তাদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে। আমি নিজে ১১ বার কারাগারে গিয়েছি। আমার অপরাধ আমি গণতন্ত্র চেয়েছি, সত্যের প্রতিষ্ঠা চেয়েছি। আলেম-ওলামাদের যেন নির্যাতন করা না হয়, আমি সেটা চেয়েছি। সেই সময়ে আপনারা কেউ নিরাপদ ছিলেন না। আপনারা ঠিকমত রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারতেন না। ভয়ে ভয়ে থাকতেন সবসময়, কখন আপনাদের নিয়ে যায়।

নিজের বয়স হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আমি আপনাদের দোয়া চাই, সহযোগিতা চাই।

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, বিশিষ্ট আলেম হাফেজ রশিদ আলম, ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।