বরগুনার বেতাগী উপজেলার শিশু-কিশোরদের এক সময়ের একমাত্র জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ‘ইউএনও শিশুকুঞ্জ’ এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, শিশুদের রাইডসের সংখ্যা কম থাকা এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবে শিশুদের পদচারণা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা বিরাজ করছে।
বিনোদন ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে নির্মাণ করা হয় বেতাগী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উপজেলা পরিষদ পুকুরের পূর্বপাশে অবস্থিত শিশুকুঞ্জটি।
২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর শিশুকুঞ্জটি উদ্বোধন করেন বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: শফিউল আলম। উদ্বোধনের পর প্রথম কয়েক মাস বিকেল হলেই শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর থাকত পুরো এলাকা। বিভিন্ন রাইড, দোলনা ও খেলাধুলার সরঞ্জামে শিশুদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
কিন্তু শিশুদের ভালো কোনো রাইডস না থাকার কারণে বর্তমানে শিশুদের উপস্থিতি কমে গেছে বলে দাবি করেন অভিভাবকরা। এছাড়া অধিকাংশ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কোথাও মরিচা ধরেছে, কোথাও আবার ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই শিশুদের আগ্রহ কমে গেছে।
শিশুকুঞ্জে শিশুকে নিয়ে ঘুরতে আসা বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিপুল হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পার্কটিতে ভালো ভালো রাইড না থাকার কারণে শিশুদের আগ্রহ কমে গেছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার অভাবে সন্তানদের সেখানে নিয়ে যেতে চান না। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশ অনেকটা নির্জন হয়ে যায়।’
শিশুকুঞ্জটির তত্ত্বাবধায়ক মো: ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা করা হয়েছে, কিন্তু শিশু রাইড কম থাকার কারণে উপস্থিতি কমে গেছে। তবে এ ব্যাপারে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি, সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’
অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত শিশুকুঞ্জটি সংস্কার করে নতুন খেলাধুলার উপকরণ স্থাপন করা হলে শিশুদের জন্য আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। একইসাথে পার্কটিতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শিশুকুঞ্জটির বর্তমান অবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’



