চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা
যশোরের চৌগাছায় স্ত্রীকে হত্যায় অভিযুক্ত স্বামী লিজন রেজাকে (৩৬) সিঙ্গাপুর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে আটক লিজন রেজাকে চৌগাছা থানা থানায় আনা হয়। এর আগে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে চৌগাছা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বাবা মোস্তফা হোসেন চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চৌগাছা থানা সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী রানী খাতুনকে (২২) হত্যা করে নিহতের স্বামী লিজন রেজা সিঙ্গাপুর পালিয়ে যাচ্ছিলো। খবর পেয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঢাকা এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।
নিহত রানী খাতুন চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের মশিউর নগর গ্রামের মোস্তফা হোসেনের মেয়ে। তিনি স্বামীর সাথে পৌর শহরের ডাকবাংলো পাড়ায় সানাউল্লাহর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন। তার স্বামী সিঙ্গাপুর প্রবাসী লিজন রেজা মেহেরপুর সদর উপজেলার টুংগী গ্রামের সদর আলীর ছেলে।
জানা যায়, অভিযুক্ত লিজন সম্প্রতি পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে দেশে আসেন। ২২ মে বিকেলে তার সিঙ্গাপুর যাওয়ার টিকিট ছিল। এদিন সকালে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য ঢাকা এয়ারপোর্ট ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
নিহত রানী খাতুনের মা আম্বিয়া খাতুন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রেজা আমার ফোনে কল করে বলে রানী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে যশোর হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে আপনারা দ্রুত আসেন। পরে আমি তাদের ফোন বন্ধ পেয়ে মেয়ের ভাড়া বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে দেখি রানী বাসার মেঝেতে পড়ে রয়েছে। আমি ডাক-চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রানীকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্বামী পালিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সময় ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। শনিবার বিকেলে তাকে চৌগাছা থানায় আনা হয়েছে।



