পক্ষীকুলের মধ্যে অপরূপ সুন্দর প্রজাতি ময়ুর একসময় আমাদের দেশের বনজঙ্গলে বসবাস করত। এখন বিলুপ্ত। তবে আবার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে একটি ময়ুর পাঁচ বছরাধিককাল একাকী বিষন্ন সময় কাটিয়েছে।
তবে এ বছরের শুরুতে তার সে বিরহের অবসান ঘটেছে। বন বিভাগ চট্রগ্রাম থেকে জানুয়ারী মাসে একটি ময়ুরীকে এনে সঙ্গী করে দিয়েছে। এরপর এ জোড়াকে টাঙ্গাইল মধুপুর বনে অবমুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।
খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের কোনো এক জায়গার একজন সৌখিন মানুষ ময়ুরটিকে পোষার জন্যে এনেছিলেন।
খবর পেয়ে বনবিভাগ বছর পাঁচেক আগে বাচ্চা ময়ুরটি উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনে। অফিসটিতে এখন কর্মরতদের সেখানে পোস্টিং হওয়ার আগে থেকে ময়ুরটি আছে। ফলে সেটির উদ্ধারের তারিখ বা অন্য বিস্তারিত কেউ বলতে পারেননি। দেশে ময়ুর অবমুক্ত করার জায়গা না থাকায় সেটি কেন্দ্রেই রাখা হয়। তবে ময়ুরটির নিঃসঙ্গতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট অফিস সচেষ্ট ছিল।
চট্রগ্রামে একটি ময়ুরী উদ্ধারের খবর পেয়ে ১৯ জানুয়ারি খুলনার একটি টিম চট্রগ্রাম যায়। অবশ্য তারা এখান থেকে সাথে একটি কুমির নিয়ে চট্রগ্রামে পৌঁছে দেন এবং ময়ুরীটিকে নিয়ে আসেন। এনে তাকে খাঁচায় দেয়ার পর ময়ুর সাদরেই গ্রহণ করে। এখন পাখি জোড়া মনের আনন্দে সেখানে বিচরণ করছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, ‘ময়ুরের একটা জোড়ার সন্ধানে ছিলাম। চট্রগ্রামে উদ্ধারের খবর পেয়ে এনে শেডে ছেড়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তাদের ফলমূল ও সিদ্ধ ডিম খাবার হিসেবে দেয়া হয়। দুইজনেই সুস্থ এবং প্রফুল্ল আছে। বাংলাদেশে একসময় ময়ুর ছিল। কিন্তু এখন নেই। ফলে ওদের অবমুক্ত করা যাচ্ছিল না। তবে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে ময়ুর পুনর্বাসনের চেষ্টা হচ্ছে। সেখানে ছাড়া যায় কিনা তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এখানে ওদের ব্রিডিং হয় কিনা তার দিকে আমরা নজর রাখছি।’
ফোনে টাঙ্গাইলের বন বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মহসিন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘একসময় ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিং ও টাঙ্গাইল জেলার ৮০ হাজার একর জুড়ে বন ছিল। সে বনভূমি জুড়ে ময়ুর ছিল। আমরা বনভূমি একেবারে উজাড় করতে না পারলেও ১৯০০ সাল নাগাদ ময়ুর শিকার করে খেয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছিলাম। সম্প্রতিকালে আমরা একটি প্রকল্পের আওতায় ২০টি ময়ুর টাঙ্গাইলের বনে ছেড়েছি। সবগুলো বেঁচে আছে। তবে ওরা যে ১২টা বাচ্চা ফুটিয়েছিল তার মধ্যে একটি কেবল বেঁচে আছে।’
খুলনার জোড়াটি তিনি টাঙ্গাইল বনে নেয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।



