সিলেটে নিঃসন্তান দম্পতিদের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রথম আইভিএফ সেন্টার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে।
নগরীর সুবহানীঘাট উপকণ্ঠ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সেন্টারটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সিলেটে নিঃসন্তান দম্পতিদের সুচিকিৎসার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন ২১ জন গাইনোকোলজিস্ট। তারা স্বপ্ন দেখছেন একটি পূর্ণাঙ্গ আইভিএফ সেন্টারের, যার ধারাবাহিকতায় সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে কাজ করবে এ সেন্টার। কম খরচে টেস্ট টিউবের মাধ্যমে বন্ধ্যা মা-বাবার সন্তান জন্মদানে সার্বিক চিকিৎসা প্রদানে এটিই হচ্ছে সিলেটের প্রথম ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিঃসন্তান নারীরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আইভিএফ, আইসিএসআই, আইইউআই, এমব্রো ফ্রিজিংসহ অন্যান্য চিকিৎসা এবং নিঃসন্তান দম্পতিদের সার্বিক চিকিৎসার জন্য সেন্টারটি উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: তারেক আজাদ বলেন, ‘কম খরচে টেস্ট টিউবের মাধ্যমে বন্ধ্যা মা-বাবার সন্তান জন্মদানের জন্য সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেসব দম্পতির স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা নেই, তারা আইভিএফ পদ্ধতিতে ভ্রূণ ট্রান্সফার করে সন্তান জন্ম দিয়ে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘তাদের হাসপাতালে মা ও শিশুদের গাইনি রোগ ও বাচ্চাদের নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসায় সফলতা রয়েছে। কিন্তু সিলেটের নিঃসন্তান দম্পতিরা সন্তানসম্ভবা হতে পারছেন না, এ নিয়ে পরিবারগুলোতে চরম অশান্তি দেখা দেয়। সন্তান জন্ম দিতে না পারা স্ত্রীকে স্বামী-শাশুড়ি ও পুরো পরিবার নানাভাবে নিগৃহীত করেন। এটা আমাদেরকে ব্যথিত করে। সে ব্যথা থেকে সাধারণ গাইনি চিকিৎসার পাশাপাশি ইনফার্টিলিটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছি। এ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। আইভিএফ ও আইইউআই কার্যক্রমের মাধ্যমে আশা করি এটাতে সফলতা পাওয়া যাবে।’
এ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তায় রয়েছেন গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার নমিতা রানী সিনহাসহ সিলেটের গাইনি বিশেষজ্ঞরা।
অধ্যাপক নামিতা রানী সিনহা নয়া দিগন্তকে জানান, মেয়েদের জরায়ুতে অ্যাডোনোমাইসিস নামের এক প্রকার রোগ হয়ে থাকে। এতে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ রোগ নিরাময়ের জন্যে ভারতে একাধিক হাইপো সেন্টার গড়ে উঠেছে।
নন-সার্জিকেলি চিকিৎসা দিতে এটি একটি হাইপো সেন্টার। এছাড়া সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে নিঃসন্তান মায়ের ভ্রূণ ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরুর নয় মাস পর টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হবে। টেস্টটিউব ও আইইউআই প্রক্রিয়ায় নিঃসন্তান দম্পতিরা মা হতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘সিলেটে এই প্রথম চালু হচ্ছে আইভিএফ, আইইউআই কার্যক্রম।’
এটি সিলেটের একমাত্র ইনফার্টিলিটি সেন্টার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্তান দম্পতির জন্য এটি অত্যন্ত ভালো কাজ। এ কাজে ইনশাআল্লাহ ব্যাপক সফলতা পাওয়া যাবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক্তার হিমাংশু দাস সৌম্যর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ডাক্তার নাতিয়া রাহনুমা, ডাক্তার নুজহাত শারমিন উর্মি, ডাক্তার দ্বীপান্নিতা ঘোপ, ডাক্তার শামীমা আক্তার শিপা, রেবেকা সুলতানা নিশু প্রমুখ।



