ফেনী শহরের হাসপাতাল মোড়ের তাযকিয়াতুল উম্মাহ মডেল মাদরাসার বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে তৎসংলগ্ন জমজম কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মো: শামছুল আলম।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রশিদ আহমদ শাহীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড স্টাডিজ চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক, ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল হান্নান, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আফলাতুন কাউসার।
শিক্ষার্থী জামশেদ আলম, নাহিয়ান ইসলাম, সুলতানা আক্তারের আরবী, বাংলা, ইংরেজীতে যৌথ পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা পাহাড়তলী শাখার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন, তাযকিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের এডুকেশন ও ফিন্যান্স ডিরেক্টর মাওলানা মো: মাঈন উদ্দিন, ফেনী কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ আবদুল বারিক, শিক্ষার্থী মুয়াজ বিন জামান ও ওয়াহিদা জারিন ওহি।
অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক অভিভাবকসহ অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৬ শতাধিক মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা এবং শিক্ষানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রফেসর ড. মো: শামছুল আলম বলেন, বাংলাদেশে মানুষ বললে ১৮ কোটি আছে। আসলে কি মানুষ আছে। দুই পা থাকলে মানুষ হয় না। তাই এক ব্যক্তি বলছিলো জাপানের মানুষদেরকে যদি বাংলাদেশে ট্রান্সফার করা হয়। জাপানের লোকেরা যদি বাংলাদেশ ২/৪ বছর থাকে আর বাংলাদেশীদের যদি জাপানে স্থানান্তর করা হয়। পাঁচ বছরে এটা জাপান হয়ে যাবে। ওটা বাংলাদেশ হয়ে যাবে। দূষণে অনিয়মে অব্যবস্থাপনায় জাপান হয়ে যাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হয়ে যাবে জাপান। এর মূল কারণ হলো আমাদের শিক্ষার মধ্যে আমরা আল্লাহকে খোদা হাফেজ করে দিয়েছি। বাংলাদেশে হাজারো বৃদ্ধাশ্রমে থাকা কারো ছেলে-মেয়ে আলেম না। আমরা যেখানে আছি ইসলাম শিক্ষায় ভূমিকা রাখি। বাংলাদেশ বেস্ট শিক্ষা ইসলামের শিক্ষা।
বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার বর্তমান যুগে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করে দেশ-জাতি ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের কল্যাণ, শান্তি এবং মুক্তির জন্য চাই এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যা হবে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, ধর্ম ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গঠিত, সুচিন্তিত এবং বিশ্বমানের শিক্ষা কারিকুলাম অনুযায়ী পরিচালিত। যুগোপযোগী মাদরাসা শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকাশ সময়ের দাবি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ৯ গ্রুপে ১৮৫ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও পুরস্কৃত করা হয়।



