২৫ দিন পর দেশে এলো প্রবাসী শাফিউলের লাশ

রাজধানী রিয়াদের একটি বহুতল ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কিং খালেদ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রাশিদুল ইসলাম বোরহান, গাংনী (মেহেরপুর)

Location :

Gangni
নিহত সৌদি প্রবাসী শাফিউল ইসলাম
নিহত সৌদি প্রবাসী শাফিউল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় নিহত মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের বাসিন্দা শাফিউল ইসলামের (৩৫) লাশ ২৫ দিন পর দেশে পৌঁছেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে শাফিউল ইসলাম প্রায় এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। রাজধানী রিয়াদের একটি বহুতল ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কিং খালেদ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, দূতাবাসের অনুমতি ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে লাশ দেশে আনতে বিলম্ব হয়। অবশেষে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে তার লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে শনিবার ভোরে লাশ নিজ গ্রামে নেয়া হয়।

গ্রামে লাশ পৌঁছালে শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় শত শত মানুষ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সকাল সাড়ে ৯টায় কসবা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

শাফিউল ইসলাম পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তান ও বাবা-মা রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাফিউল ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় বিদেশে গেলেও নির্মম দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য আবেদন করলে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

প্রবাস জীবনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার আরেকটি করুণ উদাহরণ হয়ে রইল শাফিউল ইসলামের মৃত্যু।