রংপুরে সিগনাল অপারেটর ক্যাবল ওয়ানের অফিসে হামলা ও হত্যার হুমকির মামলায় রংপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন (৪৪) এবং জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে (৪৩) গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (২ মার্চ) রাতে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল নগরীর কামাল কাছনা এলাজায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তামজিদুর রশিদ গালিবকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নগরীর নুরপুর থেকে গ্রেফতার করে মুরাদ কায়সার মিথুনকে। পরে তাদের রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের কাছ থেকে আমরা ওই ঘটনায় দুজন আসামিকে পেয়েছি। তাদেরকে ওই ঘটনার দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার গালিব নগরীর কামাল কাছনা এলাকার মরহুম রশিদুল ইসলামের ছেলে ও জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মিথুন কামাল কাছনা কাঁচাবাজার এলাকার মরহুম আব্দুর রশিদের ছেলে এবং রংপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে ডিশ ব্যবসার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার অভিযোগ ওঠে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু, সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব এবং তাতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুসহ ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে।
ক্যাবল ওয়ানের ব্যবস্থাপক পরাগ জানান, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামালকাছনা এলাকার ক্যাবল ওয়ানের ফিড মালিক হারুন অর রশিদকে বাদ দিয়ে জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে দেয়ার জন্য ওয়ান কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ ফেব্রুয়ারি কামাল কাছনা এলাকার ডিশের লাইন কেটে দেয় গালিব ও তার বাহিনী। বিষয়টি নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন কর। ভুক্তভোগী ফিড মালিকের স্ত্রী।
ব্যবস্থাপক পরাগ আরো জানান, এই ঘটনার জেরে রোববার সন্ধ্যায় গালিব তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা চালায়। ল্যাপটপ সহ প্রয়োজনীয় ডিশের সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করে। এসময় পাখি দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিঠুন আমাকে থাপ্পর মারে এবং যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু আমার ল্যাপটপ টেবিল থেকে ফেলে দেয়। তারা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে বলে, আগামীকালের মধ্যে হারুনকে বাদ দিয়ে গালিবকে ফিড না দেয়া হলে পুরো অফিস ভাঙচুর করা হবে।
ক্যাবল ওয়ানের জিএম কাফি জানান, এ সময় হামলাকারীরা আমাকে মোবাইল ফোনে আগামীকালের মধ্যে ফিডের নিয়ন্ত্রণ গালিবকে দেয়া না হলে আমার পরিবার সহ আমাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয়। এই অবস্থায় সমস্ত কর্মচারীরা নিরাপত্তা হীনতায় ভোগে এবং অফিস তালাবদ্ধ করে তারা পালিয়ে যায়। কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকার কারণে রংপুরে আমাদের সিগন্যালের সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা সবাই এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে আমরা দুটি মামলা করেছি। সিসিটিভি ফুটেজে সব স্পষ্ট হয়ে আছে। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি আমরা।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, ওই ঘটনায় দুটি মামলা হওয়ার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে রেপ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কামালগাছনা থেকে এজহার নামীয় আসামি জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। আমরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরীর নুরপুর এলাকা থেকে জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেছি।
ঘটনার পর কেবল ওয়ান অফিস পরিদর্শন করেছেন মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, ‘ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমরা জব্দ করেছি। এছাড়াও প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওয়ান কর্তৃপক্ষ দুটি মামলা করেছে। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুটি মামলায় আমরা নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে।’
এদিকে রাতেই এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটি অবগত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু এবং সহ-সম্পাদক রহমান তামজিদুর রশিদ গালিবকে সকল পদপদবী থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।
ঘটনাটি এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।



