উলিপুরে জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেতু গড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন

ভ্যান চালানো, দারোয়ানের চাকরি ও কুলির কাজ করে দীর্ঘদিনে জমানো অর্থ দিয়ে তিনি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পরে অর্থের ঘাটতি মেটাতে নিজের মোটরসাইকেল, গবাদিপশু বিক্রি ও ঋণ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি সম্পন্ন করেন।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Ulipur
দিনমজুরের ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মিত সেতু
দিনমজুরের ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মিত সেতু |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর ওপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করেছে। প্রায় ২৫ বছরের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জোনাইডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম (৪৫)। তার এই মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছেন আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উলিপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন দক্ষিণাংশে একটি জরাজীর্ণ রেলসেতুই ছিল পারাপারের একমাত্র ভরসা। ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন জোনাইডাঙ্গা, মন্ডলপাড়া, সরদারপাড়া, কাঠাখালি, তবকপুরসহ আশপাশের ১৫-২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের জন্য এটি ছিল চরম ভোগান্তির কারণ। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের কষ্ট দেখে নিজেই উদ্যোগ নেন আব্দুল করিম। ভ্যান চালানো, দারোয়ানের চাকরি ও কুলির কাজ করে দীর্ঘদিনে জমানো অর্থ দিয়ে তিনি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পরে অর্থের ঘাটতি মেটাতে নিজের মোটরসাইকেল, গবাদিপশু বিক্রি ও ঋণ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি সম্পন্ন করেন।

গত ১৭ এপ্রিল তার মায়ের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করা হয় এবং এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এলাকাবাসী সেতুটির নাম দিয়েছেন ‘আব্দুল করিম সেতু’।

স্থানীয় শিক্ষার্থী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘আগে রেলসেতু দিয়ে স্কুলে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নতুন সেতু হওয়ায় এখন আমরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছি।’

পথচারী এসমোতারা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে দীর্ঘদিন আত্মীয়ের বাড়ি আসা সম্ভব হয়নি। নতুন সেতু নির্মাণের ফলে এখন যাতায়াত সহজ হয়েছে।

আব্দুল করিম বলেন, ‘মানুষের কষ্ট দেখে চুপ থাকতে পারিনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। এর বিনিময়ে আমি শুধু সবার দোয়া চাই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদি হাসান বলেন, ‘নিজ উদ্যোগে জনগণের জন্য এমন একটি সেতু নির্মাণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি সমাজের জন্য একটি উদাহরণ।’