জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে ভোট চাওয়া উচিৎ বিএনপির : দেলাওয়ার

‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে যে তারা ক্ষমতায় আসলে এ ধরনের সকল অপকর্ম কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সমাজের আর কোনো অসহায় পরিবারের ওপর, সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের ওপর কোনো প্রকার জুলুম নির্যাতন হবে না।’

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও

Location :

Thakurgaon
বক্তব্য প্রদান করছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন
বক্তব্য প্রদান করছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন |ছবি : নয়া দিগন্ত

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, বিএনপির নেতারা এখন কথায় কথায় জামায়াতকে রাজাকারের দল আখ্যা দিচ্ছে। এসব মিথ্যা গল্প বলে জাতিকে বোকা বানানো যাবে না। বাংলাদেশের জনগণ ইতিহাস জানে। স্বাধীনতার পর সরকার যখন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে বিএনপির রাজাকারের সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার। সুতরাং রাজাকারের দল হলো বিএনপি। তাদের উচিৎ আগে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া, তারপর ভোট চাইতে আসা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দানারহাট ফাজিল মাদরাসা ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী জনসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি আপনাকে অত্যন্ত সম্মান করি শ্রদ্ধা করি। আজকে আপনারা যেভাবে মিথ্যাচার করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ কখনোই তা বিশ্বাস করে না। মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে আপনার বাবার নামও রাজাকারের তালিকায় আছে।

চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ দখলবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন উল্লেখ করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী জাতি আশা করেছিল এবার তারা চাঁদাবাজ দখলবাজ টেন্ডারবাজ ও লুটেরাদের হাত থেকে রেহাই পাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যেভাবে চাঁদাবাজি দখলবাজি টেন্ডারবাজি লুটতরাজ জুলুম নির্যাতন মামলাবাজি হতো, এখনো সেভাবেই হচ্ছে। শুধুমাত্র হাত বদল হয়েছে আর বাকি সব আগের মতোই আছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে যে তারা ক্ষমতায় আসলে এ ধরনের সকল অপকর্ম কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সমাজের আর কোনো অসহায় পরিবারের ওপর, সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের ওপর কোনো প্রকার জুলুম নির্যাতন হবে না।

ভোটারদের কাছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আপনারা যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন তাহলে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আপনাদের জন্য একটি আদর্শ ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলতে। এই এলাকার মানুষ অনেক বেশি অবহেলিত। আমরা স্বাস্থ্য চিকিৎসা শিক্ষা যোগাযোগ কর্মসংস্থানসহ সকল ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছি। আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল কলেজ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ইপিজেড স্থাপন করব। স্বল্প খরচে মানুষের সেবা নিশ্চিত করব। সহজেই ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা ন্যায্য দামে, সার, বীজ, কীটনাশক পাবেন এবং তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবেন। নারীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ফিরে পাবেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে তারাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজে অবদান রাখবেন।

জামায়াত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।