সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের একপেশে আচরণে ‘অনিয়মের’ অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের দরগা রোডস্থ জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম প্রশাসনের একপেশে আচরণের অভিযোগ তুলে লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর
আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য উপাত্ত দেওয়ার পরও তারা কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু তাই নয়, সাধারণ ভোটার ও আমার কর্মী সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি প্রদর্শন, মিথ্যা তথ্যের অপ-প্রচার, প্রচার মিছিলে আক্রমণ, নির্বাচনি অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়।
ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই পরাজিত প্রার্থী বলেন, ভোটের আগের দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং অ্যাজেন্টের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি ও এলাকা ছাড়ার হুমকি, পোলিং অ্যাজেন্টেদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, কেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রতিদ্বন্ধী বিএনপি প্রার্থীর অবাধ বিচরণ, ধানের শীষ প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল, ভোট গণনার সময় বহিরাগতদের প্রবেশ, প্রত্যেক কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দেড় শতাংশ ভোট অবৈধ ও ধানের শীষের বাতিল ভোটকে বৈধ ঘোষণা, ধানের শীষের ৯০ ভোটকে ১০০ দেখানো ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০ ভোটকে ১০০ দেখানো হয়েছে। এছাড়া ফলাফল শীটে প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে ঘষামাজা করে জালিয়াতি ও কারচুপি করা হয়।
এসময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল লতিফ, কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতের আমির আবু ইউসুফ ও শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামীম রেজাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়েছেন বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।



