কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেয়া জোড়া লাগানো যমজ মেয়ে শিশুর চিকিৎসা ও জীবন বাঁচানোর আকুতি নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে একটি অসহায় পরিবার। অর্থের অভাবে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে শিশু দু’টির ভবিষ্যৎ চিকিৎসা। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জোড়া লাগানো শিশু দু’টিকে দেখতে এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামে তাদের বাড়িতে যান দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ।
পরিদর্শনকালে ইউএনও শিশু দু’টির বাবা মো: নাহিদ হাসান ও পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশু দু’টির পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী, গুঁড়ো দুধ এবং নগদ এক হাজার টাকা ও চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে পাঁচ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ ও মোছাম্মৎ সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে যমজ দুই শিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর চিকিৎসকেরা শিশু দু’টিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
চিকিৎসকেরা জানায়, উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু দু’টিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন একাধিক ধাপে জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার সময় তিন মাস পর আবার ঢাকায় এনে দেখানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথ যেন আটকে গেছে।
শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান স্থানীয় একটি দোকানে সামান্য বেতনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাস শেষে তার হাতে আসে মাত্র নয় থেকে ১০ হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালানোর পর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এরই মধ্যে নবজাতক দুই শিশুর দুধ, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি ধারদেনার বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।
ইউএনও অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘নবজাতক শিশু দু’টির চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়দি ও জটিল প্রক্রিয়া। আমরা আজ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য চেক তুলে দিয়েছি। শিশু দু’টির চিকিৎসায় পরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির পাশে থাকবে।’



