দোয়ারাবাজারে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

রোববার (১ মার্চ) সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Dowarabazar
সাজাপ্রাপ্ত মুহিবুর রহমান
সাজাপ্রাপ্ত মুহিবুর রহমান |সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে করা মামলায় মুহিবুর রহমান নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার (১ মার্চ) সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো: শামসুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের তেরাপুর গ্রামের গৌছ আলীর ছেলে মো: মুহিবুর রহমান। আসামি পলাতক আছেন। জরিমানার টাকা নির্যাতনের শিকার ওই নারী পাবেন।’

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী ছাতক পৌর শহরের বাসিন্দা ভিকটিম কলেজছাত্রীর সাথে মোবাইলফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন অভিযুক্ত মুহিবুর রহমান। সে সময় তিনি ভিকটিমকে জানান যে, তিনি ফ্রান্সে আছেন। সেখানে তার বাড়িসহ অনেক সম্পদ আছে।’

পরবর্তী সময়ে নিয়মিত কথাবার্তা আর গভীর প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে মুহিবুর ভিকটিমকে জানান, তাকে বিয়ে করে ফ্রান্সে নিয়ে যেতে চান। এর কিছুদিন পরেই তিনি জানান যে, তিনি দেশে চলে এসেছেন। এরপর ভিকটিমের সাথে দেখা করে ও তাদের মধ্যে মোবাইলফোনে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। পরে ওই বছরের ১১ নভেম্বর মুহিবুর তার এক বন্ধুর সহযোগিতায় ভিকটিমকে ছাতক পৌর শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখেন। এ সময় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ ও ছবি তুলে রাখেন। পরে ভিকটিমকে বিদায় করে দেন মুহিবুর।

ঘটনার পর ভিকটিম কলেজছাত্রী বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারেন, মুহিবুর একজন প্রতারক। কখনো ফ্রান্সে ছিলেন না। এক সময় ব্রুনাই ছিলেন। এরপর তাকে আবার হোটেলে যেতে বলা হলে মেয়েটি সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কিন্তু দ্বিতীয় বার তার কথা মতো হোটেলে না যাওয়াতে মুহিবুর সেই ভিডিও ও ছবি ফেসবুক, ইউটিউবে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে সেই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিম কলেজছাত্রী অভিযুক্ত মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার বিচারকাজ শেষে রোববার রায় ঘোষণা করেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক।