সেনাবাহিনী

মুন্সীগঞ্জে জসিম হত্যাকাণ্ড পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে

‘সেনাবাহিনীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দু’ পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। নির্বাচনের পর কথা কাটাকাটির মাধ্যমে সেই বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দু’ পক্ষ ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকলেও ঘটনার মূল কারণ ছিল পারিবারিক কলহ।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ
মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ |ইউএনবি

মুন্সীগঞ্জে নিহত জসিম উদ্দিনের ঘটনা মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দু’ পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। নির্বাচনের পর কথা কাটাকাটির মাধ্যমে সেই বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দু’ পক্ষ ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকলেও ঘটনার মূল কারণ ছিল পারিবারিক কলহ।

তিনি উল্লেখ করেন, চর আব্দুল্লাপুর এলাকায় নাসিরের পক্ষ ও জসিমের পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্কের অবনতি ছিল। পারিবারিক সূত্রে তাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। নির্বাচনের পর সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় দু’ পক্ষ। প্রথমে হাতাহাতি হয়, পরে বিকেল আড়াইটার দিকে নাসির পক্ষের অতর্কিত হামলায় জসিম গুরুতর আহত হন। তাকে ঢাকায় নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মোল্লাকান্দির একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছিল। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ বলেন, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলার কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। শ্রীনগরে দু’ পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আনন্দপুর ও মোল্লাকান্দি এলাকায় উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলে সেখানে টহল জোরদার করা হয়। আগলা এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দু’জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোল্লাকান্দিসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেনা মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। ইউএনবি