নোয়াখালীতে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি এবং তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোয়াখালী জেলা শাখা। জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার। প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এ কে এম শামসুদ্দিন।
সভায় নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি নোয়াখালী সদর উপজেলার বিএনপির একটি মিছিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এতে ১২ জন আহত হন এবং ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের সুচিকিৎসার দাবি করা হয়।
সভায় আরো বলা হয়, ঈদের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
এছাড়া শহরের ফকিরপুর ও লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় সংঘটিত সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনাগুলো জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
বিদ্যুৎ সঙ্কট প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, জেলা শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সভায় সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সভা থেকে জেলার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।



