স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে কারো বাজার, কলোনি বা অধিনস্ত ভূখণ্ডে পরিণত হতে দেব না। দেশের টাকা দেশেই থাকবে। চিকিৎসার নামে বিদেশে আর টাকা যেতে দেয়া হবে না। দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।’
সোমবার (৩১ আগস্ট) মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রক্ত দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছি এবং ২০২৪ সালে আবার রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট বিদায় করে গণতন্ত্র উদ্ধার করেছি। আমরা যদি এবার এ দেশটাকে গড়ে তুলতে না পারি বা ব্যর্থ হই তাহলে আমরা দেশ গড়ার সুযোগ হয়তো জীবনে আর না-ও পেতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে। জনগণের ঘামের টাকায় আমাদের বেতন হয়, এ কথাটা অবশ্যই মনে রেখে দেশের মানুষের সেবা করার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখাসহ মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ধর্ষণ, সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।’
গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য বিভাগসহ দেশের সকল সেক্টরে ব্যাপক দুর্নীতি-লুটপাট করে পুরো দেশটাকেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগামী তিন বছরের মধ্যে পুরো দেশে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা, তাদের প্রভুরা আমাদের বিরুদ্ধে যড়ষন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা আমাদের দেশটাকে তাদের বাজার বানাতে চায়, তারা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করতে চায়।’
‘আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে গড়তে হবে। কোনোভাবেই আগের মতো কাজ করলে হবে না। অবশ্যই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের জনগণের প্রতি মানবিক হতে হবে,’ বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন।
মানিকগঞ্জবাসীকে সুখবর দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেয়া হবে। ডায়ালাইসিস করা রোগীদের আর ঢাকায় গিয়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে হবে না। প্রতিদিন ১২০ জন রোগী বাড়ি থেকে এসেই ডায়ালাইসিস নিতে পারবেন। এতে করে বাড়তি টাকাও খরচ হবে না। এটা পুরো দেশেই চালু করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রত্যেকটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সারাদেশে ৪২ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে, তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। এতে করে ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতো রোগ নির্ণয় করতে সুবিধা হবে, মায়েদের মৃত্যুর হারও কমে যাবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিমুক্ত এক নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়বো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুরো দেশে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাশিত উন্নয়নের ফল পাবে।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে যা করা দরকার আমরা তাই করবো।’
‘মানিকগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় জেলা। আমরা আমাদের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সার্বিক সহযোগিতা করবো। মানিকগঞ্জ সবদিক থেকেই হবে একটি মডেল,’ বলেন তিনি।
তিনি মানিকগঞ্জের নদী ভাঙ্গন এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের মানুষদের রক্ষা করতে হবে।’
এসময় মানিকগঞ্জ-১ আসানের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পিপি আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ জেলার দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।



