ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
শ্বশুর বাড়ি থেকে শিশুসন্তানকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার কথা বলে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক বাবা। এ ঘটনায় ঘাতক বাবাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নানা বাড়ির অদূরে রায়েরগ্রাম এলাকার একটি কাচা রাস্তায় স্থানীয়রা ওই শিশুর লাশ পরে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন শিশুটির মা।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকার মরহুম হারিসের ছেলে সোহাগ মিয়া প্রেমের সম্পর্কে প্রায় ছয় বছর আগে তৃতীয় বিয়ে করেন রায়েরগ্রাম এলাকার লামিয়া আক্তারের সাথে। বিয়ের বছর দেড়েক পরে তাদের ঘর আলোকিত করে আসে ছেলেসন্তান। যার নাম রাখা হয় লাবিব। স্বামী সোহাগের সাথে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তৃতীয় স্ত্রী লামিয়া আক্তার।
বুধবার বিকেলে সোহাগ মিয়া শ্বশুর বাড়ি থেকে সন্তান লাবিবকে (৩) নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সন্ধ্যার আগে পুনরায় পৌঁছে দেয়ার শর্তে তিনি সন্তানকে নিজের সাথে নিয়ে যান। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নানাবাড়ির অদূরে রায়েরগ্রাম এলাকার একটি কাচা রাস্তায় স্থানীয়রা এক শিশুর লাশ পরে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে লাশ উদ্ধার করে। ততক্ষণে পরিচয় শনাক্ত হয় শিশু লাবিবের।
শিশুটির বাবা সোহাগ এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ও একাধিক মামলার আসামি বলেও নিশ্চিত করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তার ত্রিশাল থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই ত্রিশাল থানা পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত ও অভিযানে নামে। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার বাখুরা গ্রাম থেকে অভিযুক্ত সোহাগ মিয়া ও তার প্রথম স্ত্রী জাকিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ মিয়া স্বীকার করেন যে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি নিজে তার সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে চলে যান।
গ্রেফতার আসামিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানার্থে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি জাকিয়া আক্তারকেও আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ আহমেদ।
ওসি ফিরোজ আহমেদ জানান, লাশটি উদ্ধারের পর আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



