সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনকে ঘিরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার চেলা নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে শ্রীপুর গ্রামের মো: আছন আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (২৫) এবং পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে আরশাব উদ্দিনের (৩২) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জেরে বুধবার সকালে আরশাব উদ্দিনকে নদীর পাড়ে একা পেয়ে নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেন। আরশাব উদ্দিনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরে শ্রীপুর গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মধ্যবর্তী চাইরগাঁও গ্রাম অতিক্রম করে পূর্বচাইরগাঁও গ্রামে হামলার উদ্দেশে অগ্রসর হলে পূর্বচাইরগাঁও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের মঈনউদ্দীন (২৫), শাহিন মিয়া (২৩), সাগর মিয়া (২৭), দেলোয়ার হোসেন (২৩), মমিন মিয়া (৪৮), আমীর হোসেন (৩৮), সরাজ মিয়া (৪৮) ও শমশর আলী এবং শ্রীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (২৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০), নুর উদ্দিন (২৫), মোহাম্মদ আলীসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তারা পৃথকভাবে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।



