নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ ১৩ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে নোবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
রোববার (৩০ নভেম্বর) নোবিপ্রবির প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের কাছে তারা এ স্মারকলিপি দেন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর ইসলাম ও সেক্রেটারি আরিফুর রহমান সৈকতসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে ৭১টি দাবি সংক্রান্ত মোট ১৩টি দফা উল্লেখ করা হয়। যেখানে ছাত্র সংসদ, ফ্যাসিবাদের বিচার, আবাসন, পরিবহন, শিক্ষা ও গবেষণার মান, নিরাপত্তা ও পরিবেশ, অবকাঠামো, লাইব্রেরি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, স্বাস্থ্য ও মেডিক্যাল সেন্টার, শরীরচর্চা কেন্দ্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম উল্লেখ রয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনকালে বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিণত করা হয় ফ্যাসিবাদী মনস্তত্ত্ব কায়েমের কারখানায়। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট করে শিক্ষার্থীদের ওপর চলে এসেছে নানামুখী নির্যাতন ও নিপীড়ন। গেস্টরুম-গণরুমের ভয়াবহতা অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও মানসিক স্বাস্থ্যকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে। একইসাথে সারাদেশে নানা কৌশলে উন্নয়নের নামে যে অপব্যয় ও লুটপাট চালানো হয়েছে, ক্যাম্পাসগুলোও সেই আওতার বাইরে ছিল না।’
আরো বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছিল ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে। কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় সেই দুঃসময় আরো ঘনীভূত হয়েছিল। দলীয় রাজনীতি ও স্বার্থরক্ষার বাইরে ক্যাম্পাসের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানে পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি ‘বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা। এজন্য মৌলিক সঙ্কট চিহ্নিত করে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আবারো ফ্যাসিবাদ কিংবা দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হওয়া থেকে সুরক্ষিত করতে হবে।’
স্মারকলিপি জমাদান শেষে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, ‘১৩ দফা দাবি শুধু একটি সংগঠনের নয় বরং গত ১৫ মাস শিক্ষার্থীদের মতামত ও সমস্যার ভিত্তিতে তৈরি। প্রয়োজন হলে আরো যৌক্তিক দাবি এতে যুক্ত করা হবে। ফ্যাসিবাদী শাসন অপসারণের পরেও প্রশাসন এখনো ছাত্র সংসদ গঠনের কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি। তাই ডিসেম্বরের মধ্যেই ছাত্রসংসদ সংক্রান্ত বিধি গঠনতন্ত্রে সংযোজন এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।‘
ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সঙ্কট ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা বিবেচনা করে প্রদত্ত প্রস্তাবনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুততম সময়ে টেকসই সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটের প্রতিফলন ঘটবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। একটি আদর্শ, নিরাপদ ও বৈষম্যবিহীন ক্যাম্পাস বিনির্মাণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোবিপ্রবি শাখা সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’



