পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে কুড়িগ্রামের উলিপুরে ফল ও নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কলা ও লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোজাদাররা। একইসাথে ভোজ্যতেলের দামও লিটারপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বিপরীতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মধ্যে।
উলিপুর পৌর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে হালিপ্রতি ২০ টাকায় বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবরি (মালভোগ) কলা, যা আগে ২০ থেকে ২৫ টাকায় মিলত, তা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে। সয়াবিন তেলের দামও বেড়ে লিটারপ্রতি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ১৫৫ টাকা। রমজানকে কেন্দ্র করে এ মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
অন্যদিকে কাঁচাবাজারে বেশ কিছু পণ্যের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। রোজার শুরুতে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ৮০ টাকায় নেমেছে। পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে কমে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজর ও ধনেপাতাসহ বিভিন্ন সবজির দামও কমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পৌর সবজি বাজারে কৃষক পর্যায়ে ও খুচরা দরে পার্থক্যও চোখে পড়ে। বেগুন পাইকারিতে ৩৫ টাকা এবং খুচরায় ৪০ টাকা, দেশী আলু ২০ টাকা থেকে খুচরায় ৩০ টাকা, হল্যান্ড আলু ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা, শসা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, করলা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ৬৪ থেকে ৭৫ টাকা, আদা ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া ও অন্যান্য সবজির দামও তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন অনন্তপুর এলাকা থেকে লেবু কিনতে আসা নজরুল ইসলাম (৫২) বলেন, ‘দাম শুনে দরদাম করেও শেষ পর্যন্ত না নিয়েই ফিরতে হলো। এত দামে লেবু কেনা কঠিন।’
ধামশ্রেণী ঠাকুরবাড়ি এলাকার প্রবীণ দেলাবর (৮০) জানান, ‘রমজানে কলার এমন দাম আগে দেখিনি। হালি ৬০ টাকা চাওয়ায় কিনতে পারিনি।’
ফুটপাতের এক কলা বিক্রেতা রুহুল আমীন বলেন, ‘আমরাও বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বিক্রি কমে গেছে।’
পৌর বাজারের আড়তদার আশিকুর রহমান জানান, রোজার শুরুতে অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়লেও বর্তমানে স্থানীয় সবজির সরবরাহ বাড়ায় অনেক পণ্যের দাম কমেছে। তবে কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যে এখনো ঊর্ধ্বমুখী চাপ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে কলা ও লেবুর উৎপাদন সীমিত হওয়ায় রমজানে চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে। তবে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি এসেছে।’
তিনি জানান, কৃষকদের আরো বেশি করে সবজি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বাজারে স্থিতিশীলতা আসে।
সার্বিকভাবে রমজান জুড়ে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।



