রাঙ্গামাটির মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সঙ্কট ও নানা অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিক্ষার মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে রাঙ্গামাটি জেলায় শিক্ষক নিয়োগ হলেও অনেক শিক্ষকই পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক দুর্গমতা, দুরত্ব ও স্বল্প বেতনের কারণে বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা অফিসার সরিৎ কুমার চাকমা বলেন, ‘রাঙ্গামাটিতে সর্বশেষ এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সকল শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব শিক্ষকরা নিয়োগ পেয়েছিলেন।’
পাহাড়ের ভৌগোলিক দুর্গমতা, স্বল্প বেতন, দূরত্ব ইত্যাদি কারণে তারা যোগদান করেননি বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘এনটিআরসিএ-এর শিক্ষক নিয়োগে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারলে শিক্ষক সঙ্কট অনেকাংশে দূর হবে।’
সম্প্রতি রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) টিআইবি-এর অ্যাডভোকেসি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সনাক সভাপতি প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমার সভাপতিত্বে এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর বেনজিন চাকমার সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সনাক সদস্য ও শিক্ষা উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক গৈরিকা চাকমা।
গৈরিকা চাকমা চলমান প্যাক্টা প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের জন্য দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবা প্রদান কার্যক্রমে শুদ্ধাচার বৃদ্ধি করা। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও পরিবেশ (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) খাতসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করা হচ্ছে।’
সভায় জানানো হয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) -এর মাধ্যমে কমিউনিটি অ্যাকশন সভা ও কমিউনিটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
আলোচনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট স্থাপন, বিদ্যালয়ে ফার্স্ট এইড বাক্স রাখা, নারী বান্ধব কর্ণার চালু করা এবং এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার বৃদ্ধিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া ক্লাস রুটিনে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়কে অধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রথমার্ধে রাখা, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে হোম ভিজিট বা ফোনে যোগাযোগ রাখা এবং তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় শিক্ষক সঙ্কট দূরীকরণে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পার্বত্য এলাকার পদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের জন্য বরাদ্দ রাখার দাবি তোলা হয়।
এছাড়া বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, সকল বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, কাপ্তাই লেকের দূষণ রোধ, প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনার কুফল, ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক সেশন পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসার তার আওতাধীন সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, ‘সনাক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন ও একতাবদ্ধ করার চেষ্টা করে। প্যাক্টা প্রকল্পের আওতায় অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি)-এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



