সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোট পড়েছে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪১টি। যা মোট ভোটের ৪৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন সাত লাখ ৭৭ হাজার ৩৭৯ ভোট। যা মোট ভোটের ৫৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা পেয়েছেন পাঁচ লাখ এক হাজার ৬০৭ ভোট। যা মোট ভোটের ৩৬ শতাংশ। অন্যান্য প্রার্থীরা মিলে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি ৫২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে সিলেট-৪ আসনে আর সবচেয়ে কম ৪৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছে সিলেট-২ আসনে।
এছাড়া সিলেট-১ আসনে ভোটের হার ৪৭ দশমিক ৮১, সিলেট-৩ আসনে ৪৯ দশমিক ২০, সিলেট-৫ আসনে ৪৯ দশমিক ৩৩ ও সিলেট-৬ আসনে ৪৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে মোট বৈধ ভোট তিন লাখ ১৮ হাজার ১৬টি। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর (ধানের শীষ) পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের ৫৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান পেয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। যা মোট ভোটের ৪২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্যান্য সব প্রার্থী মিলে পেয়েছেন মাত্র এক দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোট।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ৫৬টি। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা (ধানের শীষ) পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৮৫৬ ভোট। যা মোট ভোটের ৭৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে মোট ৩৮ হাজার ৬৩৫টি ভোট পেয়েছেন। অন্যান্য সব প্রার্থী মিলে পেয়েছেন ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোট।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে ৪৯ দশমিক ২০ শতাংশ হারে মোট ভোট পড়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার ৬৪১টি। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এম এ মালিক পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ ভোট। যা মোট ভোটের ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু রিকশা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট। যা মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা পেয়েছেন মাত্র চার দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট।
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে ৫২ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৮টি। এর মধ্যে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। যা মোট ভোটের ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর জামায়াতের জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) ভোট পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১টি। যা মোট ভোটের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এ আসনে অন্যান্য সব প্রার্থী মিলে পেয়েছেন মাত্র এক দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে ৪৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ছয় হাজার ৭৫২টি। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জমিয়তের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪টি ভোট। যা মোট ভোটের ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট, যা মোট ভোটের ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী চাকসু মামুন পেয়েছেন ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভোট। অন্যান্যরা পেয়েছেন মাত্র শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ ভোট।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে ৪৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৮টি। এর মধ্যে বিএনপির অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ নয় হাজার ৯১৭ ভোট। যা মোট ভোটের ৪৬ দশমিক ২১ শতাংশ। আর জামায়াতের প্রার্থী মো: সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৪৬৯ ভোট। যা মোট ভোটের ৪২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা পেয়েছেন ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট।



