তাহিরপুরে অতিরিক্ত সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, আতঙ্কে কৃষকরা

বাঁধ নির্মাণ কাজ অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার আগেই কাজ শেষ না হওয়ায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বাঁধ ভেঙে গেলে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ফসলহানি ঘটবে।

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

Location :

Tahirpur
তাহিপুরের অসম্পূর্ণ বাঁধ
তাহিপুরের অসম্পূর্ণ বাঁধ |নয়া দিগন্ত

বোরো উৎপাদিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের অন্যতম প্রধান হাওর শনি ও মাটিয়ান। চলতি মৌসুমে আম্মকখালী ও আলমখালী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই হাওরের হাজার হাজার কৃষকের কষ্টে ফলানো ফসল পাহাড়ি ঢলে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আশঙ্কায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।

উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মাড়ালা এলাকায় আম্মকখালী ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নে আলমখালী বাঁধ অসম্পূর্ণ এবং দুর্বল বাঁধ ঘিরে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বাঁধে পর্যাপ্ত মাটি ব্যবহার না করায় বাঁধটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জুয়েল মিয়া।

শনির হাওরের কৃষক কালাম মিয়া ও সাকিল মিয়াসহ অনেকেই বলেন, ‘প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বোরো ধান চাষ হয় শনি হাওরে। স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখে। আম্মকখালী বাঁধটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি এখনো শেষ হয়নি। ফসল ডুবির ঘটনা ঘটলে না খেয়ে থাকতে হবে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে।’

মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া ও লতিফ মিয়াসহ কৃষকদের দাবি, বাঁধ নির্মাণ কাজ অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার আগেই কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বাঁধ ভেঙে গেলে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ফসলহানি ঘটবে।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘শুরু থেকে তারা কাজের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হাওরে কাজ শুরু করে, যার ফলে নিজেদের লাভের জন্য সব উপজেলায় বহুবার অনেক পিআইসি পরিবর্তন হয়েছে। মাঠে পিআইসিরা বলছেন, বিল পেয়েছেন ৪২ শতাংশ। আবার পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, কাজ শেষ ৯২ শতাংশ। তাহলে পিআইসিদের বক্তব্য তো সত্য নয় যে, টাকা পায়নি এ কারণে কাজ পেছাইছে, কাজের মান খারাপ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের এমন উপস্থাপনের কারণে কোথাও তো পিআইসিদের দেখছি না বিলের জন্য চাপ দিতে। আমাদের কাছে মনে হয় এখানেও গভীর কিছু লুকায়িত আছে, না হয় একজন পিআইসি এতো টাকার কাজ করেছেন, কিন্তু বিল পাননি অথচ কাজ শেষ বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তার মানে, কাজের তুলনায় বরাদ্দ বেশি তাই টাকা দেরিতে দিলেও সমস্যা নাই বিষয়টি কি এমন?’

তাহিরপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে থাকা এস ও মনির হোসেন জানান, আলমখালী ছাড়া প্রতিটি বাঁধের মাটির কাজ শেষ। আর আলমখালীর কাজ কেউ করতে চায়নি এবং মাটি না পাওয়ায় কাজ দেরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য বাঁধের মাটির কাজ এবং অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। তবে টাকা ছাড় না দেয়ায় কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে পিআইসির দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, বৃষ্টি থাকার কারণে আম্মকখালী বাঁধের কাজ বন্ধ ছিল। এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় দুই-একদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করে অতিদ্রুতই কাজ শেষ করা হবে। তবে এই বাঁধে মেয়াদ আছে জুন পর্যন্ত। আলমখালী বাঁধে মাটি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ আছে। মাটি পেলে এই বাঁধ দু’দিনেই শেষ হয়ে যাবে। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।