নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, গবাদিপশু ও কৃষিজমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, রাতের জোয়ারে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে তালুকদার গ্রামের পাশের বাঁধটি ভেঙে যায়।
প্লাবিত এলাকায় গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বাড়িঘর, উঠান, কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘেরেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক এ প্লাবনে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকারী অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাতে আরো বড় জোয়ারের আশঙ্কা রয়েছে। পানির উচ্চতা বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং বিষয়টি একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছিল। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ভাঙনস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে জিওটিউব প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং রাতেই জরুরি মেরামতকাজ শুরুর চেষ্টা চলছে।



