পূর্ব শত্রুতার জেরে খুলনায় বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

এদিকে আজ শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাইফুল মোড়ল গ্রুপের ছয়-সাতজন স্থানীয় বিলে ধান কাটতে যায়। পথিমধ্যে শহীদুল ইসলামের লোকজন তাদের বাধা দেয়।

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত |নয়া দিগন্ত

পূর্ব শত্রুতার জেরে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নূর আলম (৫২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত নূর আলম মধুপুর গ্রামের ইকরাম শেখের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দু’টি গ্রুপ রয়েছে। এর একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল মোড়ল এবং আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম।

এদের মধ্যে শহীদুল ইসলাম আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এছাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময় দুই গ্রুপের লোকজন ঢাল-শড়কি (দেশীয় অস্ত্র) নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সর্বশেষ গত রমজান মাসেও দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাইফুল মোড়ল গ্রুপের একজন নিহত হন। এসব ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাইফুল মোড়ল গ্রুপের ছয়-সাতজন স্থানীয় বিলে ধান কাটতে যায়। পথিমধ্যে শহীদুল ইসলামের লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ সময় দু’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নূর আলম, মো: হিজমুল্লাহ, সোহেল রানা, নূরোল শেখ, মুসা শেখ, মফিজুর রহমান ও আলী হুসাইন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর আলমের মৃত্যু হয়।

নিহত নূর আলম মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল মোড়লের সমর্থক। তবে, এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহীদুল্লাহ বলেন, পূর্ব শত্রুতা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধুপুর গ্রামে স্থানীয় বিএনপির সভাপতি সাইফুল মোড়ল ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সাইফুল মোড়ল গ্রুপের নূর আলম নামে একজন নিহত ও পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিহতের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।