গাইবান্ধায় যুবদল নেতার হামলায় আহত সালাহউদ্দিনের মৃত্যু

‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম এবং একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
সালাহউদ্দিন (৩০)
সালাহউদ্দিন (৩০) |সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটায় গত ২১ জুন হামলায় গুরুতর আহত সালাহউদ্দিন (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি মারা যান। সালাহউদ্দিনের বাবা সামছুল হোদা দুদু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎সাঘাটা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান আপেল বলেন ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জামায়াত-শিবিরকে কোণঠাসা করতেই পরিকল্পিতভাবে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন সব জেনেও আসামিদের ধরছেন না।’

‎সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা জানান, দিন দুপুরে এমন হত্যার ঘটনা যে ঘটিয়েছে সেই চাকু পলাশ এখনো এলাকায় ঘুড়ে বেড়ায়। মুকলের বাবা এখনো মানুষকে মাঝে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। প্রশাসন নিরব।

‎স্থানীয়রা জানান, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে যুবদল নেতা মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যায়। এর ১০ মিনিট পর শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া টু সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় যুবদল নেতা মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফসহ ১০ থেকে ১৩ জন ছুরি দিয়ে জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে আঘাত করে। এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাজ বারী এগিয়ে এলে তাকে ধাওয়া করে রাস্তার ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করেন যুবদল নেতা মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ কয়েকজন। পরে স্থানীয়রা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দীর্ঘ ৪৮ দিন চিকিৎসার পরে আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে মারা যায়।

‎এ ঘটনায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ঘটনার পরই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়।

‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম এবং একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।