কাউখালীতে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি

উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭০ হেক্টর জমি। কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিনা সরিষা ৯ ও বিনা সরিষা ১১ জাতের আবাদ বেশি হয়েছে।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Kaukhali
সরিষার বাম্পার ফলন
সরিষার বাম্পার ফলন |নয়া দিগন্ত

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

পিরোজপুরের কাউখালীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের সুবাতাস। অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। আবহাওয়া অনুকূল ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠে-ঘাটে দিগন্ত জোড়া হলুদ ফুলে মাঠ যেন হলুদের চাদরে ঢেকে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭০ হেক্টর জমি। কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিনা সরিষা ৯ ও বিনা সরিষা ১১ জাতের আবাদ বেশি হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেউন্দ্রিয়া গ্রামের কৃষক মো: শাওন বলেন, ‘ভোজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশে ৩৩ শতাংশ জমিতে বিনা সরিষা ১১ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হওয়ার আশা করছি।’

সোনাকুর গ্রামের কৃষক সজল বৈরাগী ও হোগলা গ্রামের কৃষক লাকি হাওলাদার বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর সরিষা গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার বলেন, ‘আমাদের কৃষি বিভাগ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তেল ফসল আবাদের জন্য উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সরিষা ফলনের জন্য কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া কৃষকদের রোগ বালাই প্রতিরোধ ও পরিচর্যা বিষয় নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস জানান, এ বছর কাউখালী উপজেলায় মোট ৬৬ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা ৯ ও বিনা সরিষা ১১ আবাদ হয়েছে। যার ফলন হয়েছে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন। যা থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন হবে।