সারাদেশকে নাড়িয়ে দেয়া আলোচিত ঘটনা নরসিংদীর কিশোরী আমেনা (১৫) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেন পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
কিশোরী আমেনাকে পরিকল্পিতভাবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন তারই সৎ বাবা আশরাফ আলী। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আশরাফ আলী গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তিনি একাই তার মেয়েকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রধান আসামি আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার সহযোগী হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার হযরত আলীর বাড়িতে নিয়ে আমেনাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। চারজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে নূরা জড়িত। নূরা তার সামনে থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে তার মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পুলিশের তৎপরতায় এমন নাটক সাজিয়েও পার পাননি আশরাফ আলী।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ নিশ্চিত হন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আমেনার সৎ বাবা নিজেই। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন সন্ধ্যায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।
আদালতে জবানবন্দিতে আশরাফ আলী বলেন, আমেনার চরিত্র খারাপ ছিল। সামাজিকভাবে সে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছিল। তাই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে নির্জন সরিষাক্ষেতে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আমেনাকে হত্যা করেন তিনি। হত্যার পর এক ঘণ্টা তার মোবাইলফোন বন্ধ রাখেন। পরে রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী ফাহিমাকে বলেন, আমেনাকে নূরাসহ কয়েকজন অপহরণ করে নিয়ে গেছে।



