আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় জিন আতঙ্ক, ৩৩ শ্রমিক অসুস্থ

প্রতিদিনের মতো আজও সকালে ভালোভাবেই কারখানায় যাই। কোনো সমস্যা মনে হয়নি। কিন্তু মিলাদ শেষ হওয়ার পরেই শরীরে এমন এক ঝাঁকি অনুভব করলাম যেন চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে গেল।

তুহিন আহামেদ, আশুলিয়া (ঢাকা)

Location :

Savar
নিউএজ কারখানা, আশুলিয়া, সাভার
নিউএজ কারখানা, আশুলিয়া, সাভার |নয়া দিগন্ত

শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জিন আতঙ্কে ৩৩ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রোববার (১০ মে) সকাল থেকেই আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের নিউএজ গ্রুপের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সেলিম বলেন, গত তিন দিন আগে বাথরুমে গিয়ে এক নারী শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন আরো অন্তত ১৫ জন শ্রমিক। আজকে আবার কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একে একে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত পাশের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অপর এক শ্রমিক তুতা মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরেই কারখানায় এই সমস্যা চলছে। তাই জিন তাড়ানোর জন্য আজকে সকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ মিলাদের আয়োজন করে। কিন্তু মিলাদ শেষ হতেই সবদিক থেকে জিনরা আমাদের ওপরে আক্রমণ করে। এতে আমাদের অনেকে অসুস্থ হয়। আমারও সমস্ত শরীরে এখনো অনেক ব্যথা।

আরেক নারী শ্রমিক শাহানাজ বলেন, প্রতিদিনের মতো আজও সকালে ভালোভাবেই কারখানায় যাই। কোনো সমস্যা মনে হয়নি। কিন্তু মিলাদ শেষ হওয়ার পরেই শরীরে এমন এক ঝাঁকি অনুভব করলাম যেন চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। এরপর আর কিছু বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে।

নারী ও শিশু হাসপাতালের সিনিয়র অপারেশন ম্যানেজার মো: হারুন অর রশিদ জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিউএজ গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তারা প্রায় সবাই মাথা ঘুরানো, চোখে ঝাপসা দেখা, শরীর দুর্বল লাগা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। পরে ৩৩ জনের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, এটি আসলেই শ্রমিকদের মধ‍্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা কাজ করছে। তাদের ভেতরে জিন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের মধ্য থেকে জিন আতঙ্ক দূর করতে সকালে মিলাদের ব‍্যবস্থা করি। তবে, আজকেও সকালে ৩৩ জন অসুস্থ বোধ করলে আমরা তাদের হাসপাতালে পাঠাই। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়। এছাড়া কারখানা আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।