ফেনীতে দেশী-বিদেশী নতুন জাতের ধানের পরীক্ষা

মো: আজিজুল হক নয়া দিগন্তকে জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি কাশেমপুর গ্রামের বিস্তৃর্ণ মাঠে নতুন ধানের জাত পরীক্ষা ও বীজ উৎপাদনের প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। উৎপাদিত বীজ তিনি সরকার অনুমোদিত ফেনী স্মার্ট কৃষি নামে বাজার জাত করে থাকেন।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni

ফেনী শহরতলীর একটি মাঠে ৬৭টি জাতের হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের পরীক্ষার জন্য আবাদ করা হয়েছে। সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ কাশেমপুরের প্রায় ২০ একর জমিতে এই পরীক্ষা চলছে।

জাতীয় পদক প্রাপ্ত সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার (অব.) মো: আজিজুল হক এ প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন অধিদফতর প্রকল্পের তদারকি ও প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে থাকেন।

মো: আজিজুল হক নয়া দিগন্তকে জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি কাশেমপুর গ্রামের বিস্তৃর্ণ মাঠে নতুন ধানের জাত পরীক্ষা ও বীজ উৎপাদনের প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। উৎপাদিত বীজ তিনি সরকার অনুমোদিত ফেনী স্মার্ট কৃষি নামে বাজার জাত করে থাকেন।

তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে মাঠের ১৬২ প্লটে হাইব্রিড ৫৪ জাতের ধান আবাদ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা পরীক্ষাধীন ১৩টি জাতের ধান আবাদ করেন ৩৯ প্লটে এছাড়া বীজ উৎপাদনের জন্য ব্রি অনুমোদিত সর্বশেষ জাত সমূহের মধ্যে লবণ এবং জলবায়ু সহনশীল ব্রি-১১৭ জাতের ধান ৪ একর জমিতে, পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই সহনশীল ব্রি-১১৪ জাতের ধান ৪ একর জমিতে, প্রোটিন সমৃদ্ধ ব্রি-১০৮ জাতের ধান ৪ একর জমিতে, জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ জাতের ধান ৩ একর জমিতে, ডায়াবেটিক প্রতিরোধী ব্রি-১০৫ জাতের ধান ১ একর জমিতে ও ক্যান্সার প্রতিরোধী ব্রি-১১৫ (ব্লাক রাইস) ১ একর জমিতে আবাদ করা হয়। এছাড়া হাইব্রিড ধানের বীজ উৎপাদনের জন্য আরো ৩ একর জমি আবাদ করা হয়।

দেশের কৃষি বিজ্ঞানী ও ধান বিজ্ঞানীরা নিয়মিত এই প্রকল্প তদারকি করেন। উল্লেখিত ২০ একর জমিতে প্রায় ৬০ টন ধান উৎপাদন হয়। বীজ বপন থেকে কর্তন পর্যন্ত ১৩৫ থেকে ১৫০ দিন সময়কাল প্রয়োজন হয়।

মো: আজিজুল হক জানান, ২০১৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ও কৃষি আবাদে উৎসাহ যোগাতে তিনি প্রান্তিক কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহ যোগাচ্ছেন। তার এই প্রকল্প দেখতে ফেনী ও আশপাশের এলাকার শতশত কৃষক এই মাঠে ছুটে আসেন। তিনি তাদেরকে হাতে কলমে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিগত আমন মৌসুমে ফেনী স্মার্ট কৃষির উৎপাদিত ব্রি-১১০ জাতের বীজ ধান ১০ কেজি করে ৫০০ কৃষকের মধ্যে বিতরণ করেন। যাতে করে কৃষকরা অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন করে দেশের খাদ্য চাহিদা মিটাতে আগ্রহী হন।

তিনি বলেন, দেশের আটটি গবেষণা কেন্দ্রে হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের জাত পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের গবেষণা কেন্দ্রটি ফেনীর কাশেমপুরে।

ফেনী ব্রীজ প্রত্যয়ন অধিদফতরের কর্মকর্তা মো: মমিনুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, কাশেমপুরের এই প্রকল্পটি তারা নিয়মিত তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকেন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা ধান উৎপাদন কেমন হচ্ছে এ সকল বিষয়ে তারা নিয়মিত নজর রাখেন।