উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কারিতাস অফিসে আগুন, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি

আগুন লাগার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-১৪ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Ukhia
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের একটি অফিসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে অফিসের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-১৪ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

কারিতাস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনে অফিসের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক েআগুনের ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঘন ঘন আগুন লাগার পেছনে কেবল দুর্ঘটনা নয়, অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বড় ধরনের আগুনের পর বিভিন্ন প্রকল্প ও সহায়তা কার্যক্রমের বাজেট বৃদ্ধি পায়—এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আগেও একাধিকবার বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন সংস্থার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।