সমুদ্রের নিম্নচাপের প্রভাবে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় গত দু’দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে চকরিয়া পৌর এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়ছে কয়েক হাজার পরিবার।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) পাহাড় ধস ও ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে ও বেড়িবাঁধসহ নদীর পাড়ের জনসাধারণকে নিরাপদে আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।
গত রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পৌরবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা অংশ নিতে ও ব্যবসায়ীরা চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যাপ্ত ড্রেইনের ব্যবস্থা না থাকায় পৌর শহরে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
পৌর এলাকায় নির্মিত সেচ ড্রেইন গুলোতে ময়লা আবর্জনায় ভর্তি হয়ে রয়েছে। যার ফলে বৃষ্টির পানি চলাচল করতে না পারায় সড়কের উপর দিয়ে পানি চলাচল করছে। তাছাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি স্থানে মাতামুহুরি নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বাঁধের পাড়ে বসবাসরত পরিবার ভয়াবহ ঝুঁকিতে দিন পার করছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানান। উপজেলায় এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়কের বেশ কয়েক স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ও বৃষ্টি পানিতে সাধারণ জনগণ ও শ্রমজীবী মানুষরা বেকায়দায় পড়েছ।
উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের জোয়ারে ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বদরখালী, ডুলাহাজারা, বরইতলী, কোনাখালী, হারবাং, সুরাজপুর-মানিকপুর ও বমু ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চলে ঢলের পানিতে ডুবে যাচ্ছে। সরকারিভাবে স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দাবি করেন জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।



