সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মো: আলতাব হোসেনকে (৫৮) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মোসা: শিউলি পারভীন ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত এসবি কর্মকর্তা মো: আলতাব হোসেন ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের মরহুম জুরাইন আলী শেখের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দেশীর মদিনা সিটি এলাকায় আবুল কালামের অটোগ্যারেজের সামনে অজ্ঞাত পরিচয় এক অটোচালক সংযোগ সড়কে অটো রাখেন। এটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রাইভেটকার মালিক জহুরুলের (৩২) সাথে অটোগ্যারেজ মালিক আবুল কালামের তর্ক-বিতর্ক হয়। এ সময় প্রাইভেটকার মালিক গাড়ি থেকে নেমে গ্যারেজ মালিক আবুল কালামকে চড় মারেন।
এমন সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে প্রাইভেটকারের মালিক জহুরুলসহ তার সহযোগীরা তার ওপর চড়াও হয়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জীবন বাঁচানোর জন্য তার ছেলে শরীফুলের মালিকানাধীন এড্রইট ফ্যাশনের দিকে যান।
এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা জহুরুল, মজিবর, কাশেম, আলমগীরসহ তার সহযোগীরা আলতাফের পেছনে দৌড়ে যায়। সেইসাথে ফোন করে অন্যদের ডেকে নিয়ে তারা দেশীয় অস্ত্র পাইপ, ধারালো চাকু, হাতুড়ি, বাঁশ ও কাঠের লাঠি নিয়ে এড্রইট ফ্যাশনের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে প্রাইভেটকার মালিক জহুরুল তার হাতে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারতে থাকলে রক্তাক্ত জখম হন তিনি।
এ সময় বাঁচার জন্য আলতাফ হোসেন চিৎকার দিলে তার ছোট ছেলে আরিফুর রহমান এগিয়ে আসে। পরে তাকেও মারধর করে কারখানার মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাট করেন জহুরুল ও তার সহযোগীরা।
স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে শনিবার রাতে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার ছেলে আরিফুর রহমান গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর থানা পুলিশ ভোরে মামলার প্রধান আসামি প্রাইভেটকারের মালিক জহুরুলকে বড়দেশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। জহুরুল স্থানীয় মুসলিমের ছেলে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল আলম বলেন, মামলার প্রধান আসামি জহুরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।



