রাজশাহীতে ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ

আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজমুক্ত, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে

‘আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।’

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
সমাবেশমঞ্চে আট দলীয় জোটের নেতারা
সমাবেশমঞ্চে আট দলীয় জোটের নেতারা |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীতে আট দলীয় জোটের বিশাল সমাবেশে নেতারা বলেছেন, ‘আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা হবে।’

তারা বলেন, ‘আট দলীয় জোট নতুন জাগরণ তৈরি করেছে। অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে।’

সরকার একই দিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে করেছে বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে আট দলীয় জোটের উদ্যোগে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ। অতীতে যারা চাঁদাবাজি করেছে, তাদের আর খাওয়া নেই। আগামীর সংসদ হবে কোরআনের সংসদ। আগামীতে সচিবালয়, সংসদ ও বিচারালয় চলবে কোরআন দিয়ে। সবকিছু চলবে কুরআন দিয়ে।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট দলীয় জোট নতুন জাগরণ তৈরি করেছে। অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে।’ সরকার একই দিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মানুষের মনে আশা সঞ্চার হয়েছে নতুন বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে। এবারের সংগ্রাম চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আমাদের আট দলের বার্তা জাগরণের বার্তা নিয়ে এসেছে। পরিবর্তনের বার্তা গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের এই আট দল আর আট দল থাকছে না, আমাদের সাথে আরো অনেক দল আসার আবেদন করছে। সবার প্রত্যাশা একটাই নতুন বাংলাদেশ চাই।

তিনি আরো বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। এখনো সুযোগ আছে, গেজেট পরিবর্তন করুন। জনগণ আগেই গণভোট চায়। এখনো সুযোগ আছে, তারিখ পরিবর্তন করুন। আমরা সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না। তা না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে গিয়ে ‘না’ তে ভোট দিয়ে দেবে।”

তিনি বলেন, ‘একটি দল এখনো ষড়যন্ত্র করছে। গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট হবে। হ্যাঁ ভোট মানে হলো ফ্যাসিবাদ বিরোধী নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সুশাসনের পক্ষে। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্ট করা যাবে না। কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।’

এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নারীকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দাও জানান গোলাম পরওয়ার।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের নেতৃত্বে হয়নি। কিন্তু এই সরকার একটি দলের পকেটে ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বলব, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। গণভোট আগে হতে হবে। ষড়যন্ত্র চলছে। যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। গণভোট আগে দিতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। এই দেশ কারও বাবার দেশ নয়, কোনো পরিবারের দেশ নয়। এই দেশ ১৮ কোটি জনগণের দেশ। আমরা আট দল অনেকে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। নির্বাচনে আট দলের একজন প্রার্থী থাকবে। তাকেই আমরা ভোট দেব।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলটির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আল্লাহ ছাড় দেয় ছেড়ে দেয় না, রাকসু নির্বাচন তার প্রমাণ। তিনবার গণভোট হয়েছে, একবারও নির্বাচনের দিন হয়নি। নির্বাচনের দিন গণভোটের নজির ইতিহাসে নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন চ্যালেঞ্জের বিষয়। জনগণ বুঝে গেছে কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বুঝেনি।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে চিনেছে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তার গণহত্যার বৈধতা দেয়া জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। অবিলম্বে ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করুন।’

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে না। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। খুনিদের বিচার করতে হবে। উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।’

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ‘গণভোটে একটি দল না-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর জনগণ হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়ে তাদেরকে না করে দেবে। সিদ্ধান্ত নিন জুলাই সনদের পক্ষ নিয়ে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করুন। ইসলামের বাক্সে সকল ভোট পড়বে ইনশাআল্লাহ।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায়। মানুষ জেগে উঠেছে। চাঁদাবাজদের দেখতে চায় না। কার্যকর পার্লামেন্টে পরিণত করব। ঐক্য টিকিয়ে রাখতে হবে। এতে কেউ যাতে ফাটল ধরাতে না পারে। ইসলামী দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায়। সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ব। দেশের অবস্থা নাজুক। এখনো মিছিলে আন্দোলনে গুলি করে আহত করা হয়, এটা আমরা বরদাশত করব না। জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, ‘রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, তবু আগে গণভোট ও জুলাই সনদ কার্যকর করবো। তাছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে, জুলাই সনদ কার্যকর করে তারপর নির্বাচন দিতে হবে। লড়াই করেছি এক দিনের জন্য নয়, ‘৪৭ সাল থেকে। আবারো লড়াই করে আল্লাহর আইন কোরআনের শাসন অবশ্যই অবশ্যই কায়েম করবো ইনশাআল্লাহ।’

রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো: নুরুন্নবী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো: সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাকসুর ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।