ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ৭ জন। এর মধ্যে এনসিপির একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন, খেলাফত মজলিসের ২ জন এবং বাসদের একজন। এখন রংপুরের আসনগুলোতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ ৪৪ প্রার্থী মাঠে রইলেন। আসনগুলোর মধ্যে সবকটিতে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের প্রার্থী আছে ৫টিতে। দলটি ১টি আসন ছেড়ে দিয়েছে এনসিপিকে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান এই তথ্য জানান। প্রাপ্ত তথ্য মতে- রংপুর-১ আসন থেকে এনসিপির মো: আল মামুন, গণ অধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান খান সজিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মমিনুর রহমান, রংপুর-৩ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নুর আলম সিদ্দিক, রংপুর-৫ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসাইন ও বাসদের মমিনুল ইসলাম এবং রংপুর-৬ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো: মাহবুবুর রহমান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়নি রংপুর-২ ও ৪ আসন থেকে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরো জানান, মোট ৬১টি মনোয়নন ফরম বিতরণ হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে ৪৪ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ১২ জনের বাতিল হয়। পরবর্তীতে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান ৭ জন। মোট বৈধ হয় ৫১ জনের। আর শেষ দিনে প্রত্যাহার করেন ৭ জন। এ নিয়ে এখন মাঠে থাকলেন ৪৪ জন। এর মধ্যে রংপুর-১ এ ৬ জন, ২ এ ৫ জন, ৩ এ ৮ জন, ৪ এ ৮ জন, ৫ এ ৯ জন এবং ৬ এ ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, রংপুর-১ আসনে বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতের রায়হান সিরাজী, জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলী, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক দলের আহসানুল আরেফিন, ইসলামী ফ্রন্টের মো: আনাস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন।
রংপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মন্ডল, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আশরাফ আলী এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আজিজুর রহমান।
রংপুর-৩ আসনে বৈধপ্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বিএনপির সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের আব্দুল কুদ্দুস এবং তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী।
রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আখতার হোসেন, বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো: মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রগতি বর্মন তমা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমার।
রংপুর-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, বিএনপির গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন, সিপিবির আবু হেলাল এ রনি, নাগরিক ঐক্যের মোফাখ খারুল ইসলাম ও বাসদ মার্কসবাদী বাবুল আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন।
এদিকে রংপুর-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন, বিএনপির সাইফুল ইসলাম, জামায়াতের নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির নূর আলম মিয়া, এবি পার্টির সাদিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ।



