ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৩০, দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

জুন মাস থেকেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিদ্যমান। জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ আক্রান্তের হার পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Location :

Jhalokati
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী |নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সর্বশেষ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩০ জন। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২০ জন। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঝালকাঠি জেলায় সর্বমোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪৩০ জন। যার মধ্যে ২০ জন জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ১৪ জন, রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন এবং কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়েছেন ৪১০ জন।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসাল্টেড ডা: আবুয়াল হাসান জানান, ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। জুন মাস থেকেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিদ্যমান। জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ আক্রান্তের হার পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট, ফুল ব্লাড কাউন্ট (এফবিসি) পরীক্ষা করুন। পর্যাপ্ত তরল খাবার, স্যুপ, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন খান। কৃত্রিম, রঙিন কোমল পানীয়, ফ্রুট জুস পরিহার করুন। কোনো অবস্থাতেই প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাথানাশক ওষুধ (এনএসএআইডিএস) সেবন করবেন না। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাসায় চিকিৎসা সম্ভব। রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য সকলকে পরামর্শ দিচ্ছি।’

বমি, পেটে ব্যথা, রক্তক্ষরণ কিংবা প্রসাব কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবারও পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: হুমায়ুন কবির জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সবধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।