গাইবান্ধার বালাসী ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবিতে ব্যতিক্রমী লং মার্চে নেমেছেন বাবা-ছেলে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতে গাইবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে তারা এখন নাটোরে।
এরপর পাবনা, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা হয়ে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
অনারারি ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) মো: সাদেক আলী সরদার ও তার ছেলে মো: মোস্তাফিজুর রহমান গত ১৬ আগস্ট গাইবান্ধা থেকে এই পদযাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ এই পথযাত্রায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। বালাসী ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবিতে জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বাবা-ছেলের নির্ধারিত পদযাত্রার রুট হলো— গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, খুলনা, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর। এরপর পদ্মা সেতু পেরিয়ে তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন।
বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে রাজধানীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অথবা সেতু ভবন বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার কথা জানিয়েছেন বাবা-ছেলে।
সাদেক আলী সরদার বলেন, বালাসী ঘাটে সেতু নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চলের সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে। একইসাথে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।
তিনি আরো বলেন, বালাসী ঘাটে সেতু নির্মাণ শুধু গাইবান্ধার মানুষের দাবি নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। সেই দাবিটি সরকারের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এই পদযাত্রা।
সাদেক আলী সরদার জানান, এটি তাদের প্রথম পদযাত্রা নয়। এর আগে বাবা-ছেলে ২০ দিনে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে পথ অতিক্রম করেছেন। বিভিন্ন সময়ে ৭৪টি মিশনে তারা মোট তিন হাজার ২৭৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন।
ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বালাসী নদী দিয়ে নৌকায় পারাপারের সময় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হয়। নৌকাডুবিসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত গাইবান্ধার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বালাসী ঘাটে সেতু নির্মাণ জরুরি। সেতুটি নির্মিত হলে ঢাকার সাথে যোগাযোগ আরো সহজ ও দ্রুত হবে।
দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেয়ার কষ্টকে উপেক্ষা করে বালাসী ঘাটে সেতুর দাবিতে এগিয়ে চলেছেন বাবা-ছেলে। তাদের এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পদযাত্রায় অংশ নেয়া এবং সহযোগিতা করার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



