সিসিক প্রশাসক

নাগরিকদের জন্য পার্ক ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে

‘ডায়াবেটিসকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ডায়াবেটিস থেকে কিডনি, লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।’

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ফ্রি ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ক্যাম্প
ফ্রি ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ক্যাম্প |নয়া দিগন্ত

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি। শুধু ওষুধ খেলেই সব সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। এর সাথে খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিলেট নগরে নাগরিকদের জন্য খোলা জায়গা, পার্ক ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সিলেটে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছি। এ বিষয়ে সিলেটের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কাজ করছি। আমরা চাই, নগরবাসী যেন সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পান।’

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা: মো: ইব্রাহিমের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষে সিলেটে দিনব্যাপী ফ্রি ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।

ডায়াবেটিসের পরিস্থিতি তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এক সময় মনে করা হতো, বয়স্কদের মধ্যেই ডায়াবেটিস বেশি হয়। কিন্তু বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এ রোগের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন ও জেনেটিকসহ বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডায়াবেটিসকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ডায়াবেটিস থেকে কিডনি, লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, নিয়মিত হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আমিও একজন ডায়াবেটিস রোগী। আমিও চেষ্টা করি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তবে বিভিন্ন পাবলিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে অনেক সময় আমারও রক্তের শর্করা বেড়ে যায়। তারপরও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি নিজেও ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন ও বারডেম হাসপাতালের সাথে সম্পৃক্ত। অধ্যাপক আজাদ খান আমাকে এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করেছিলেন। সিলেটে যেসব সামাজিক সংগঠন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে, সিলেট সিটি করপোরেশন তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করবে।’

ডায়াবেটিস সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও রোটারিসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠন আরো ব্যাপকভাবে মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান পিপি রুহুল আলম খানের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান পিপি মো: সিদ্দিকুর রহমান, কো-অর্ডিনেটর (অর্থ) রোটারিয়ান পিপি বিকাশ কান্তি দাস, পোলিও প্লাস কমিটির সদস্য রোটারিয়ান পিপি মো: আব্দুল মুকিত, ক্লাব সদস্য রোটারিয়ান পিপি জিয়াউল হক, রোটারিয়ান পিপি এম এ রহিম, রোটারিয়ান পিপি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, রোটারিয়ান পিপি মো: আফসার আহমেদ চৌধুরী, রোটারিয়ান আইপিপি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম সুমন, রোটারিয়ান আহমেদ রশীদ চৌধুরী, রোটারিয়ান মনসুর আহমেদ, সিলেট ডায়াবেটিস হাসপাতালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবব্রত ভৌমিক চন্দনসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।