দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্ঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সেজন্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং হচ্ছে। সে কারণে সন্ধ্যা নামলেই গ্রামীণ জনপদগুলো একটি ভুতুরে নগরীতে পরিণত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বল্পতার কারণে সরকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানপাট শপিং মল সব বিভিন্ন পাবলিক প্লেস গুলোকে সন্ধ্যা ৭টার ভেতরে বন্ধ করে দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
ও অন্য অফিস আদালতগুলো সকাল থেকে ৪টার ভেতরে কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা জারি করেছেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করার জন্য চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না ডিজেল পেট্রোল অকটেন। সন্ধ্যার দিকে কিছু পরিমাণে তেল আসলেও সেটাতে দেখা যাচ্ছে কিলোমিটার ব্যাপী দীর্ঘ লাইন। এই সুদীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিয়া এবং তা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার কাজে ব্যবহার করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ধরনের তীব্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে দেশের সকল শ্রেণীর নাগরিক। বাদ যায়নি সাংবাদিক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এর থেকে উত্তরণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সকল শ্রেণী পেশার জনগণ।
জ্বালানি সঙ্কটের কারণে জনসাধারণের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ি ও যানবাহনগুলো চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বিশেষ করে পেট্রোল না পাওয়ার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ী ও মোটরবাইকের সংখ্যা কমে গেছে।
রাস্তায় দেখা যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত যানবাহন, ভ্যান ও ইজিবাইক সহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ী।
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকানপাটসমূহ সন্ধ্যা ৭টার ভেতরে বন্ধ রাখার নির্দেশনার বিষয়ে গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
দেশের সাধারণ জনগণ বলছেন, মানুষের বড় বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন বিলাসবহুল শপিংমলে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা তৈরি করে এবং গভীর রাত পর্যন্ত শপিংমল গুলো খোলা রেখে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ সঙ্কট তৈরি করছে।
এ বিষয়গুলি সরকার কঠিন হচ্ছে দমন করতে এবং শহরের মানুষগুলো বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরো বেশি সাশ্রয়ী হলে, এ অবস্থা থেকে উন্নতি করা সম্ভব।
আর এর মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলের মানুষগুলো কিছুটা হলেও লোডশেডিংয়ের হাত থেকে মুক্তি পাবে। বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট কাটিয়ে উঠার লক্ষে সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করেছেন।
বিষয়গুলি যথাযথ পালন করা হলে দেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের সঙ্কট কিছুটা হল রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সরকারি কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯:৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে অবস্থান করতে হবে।
দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে, এবং দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
অফিস চলাকালীন সময়ে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।
অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের মধ্যে থাকা সকল প্রকার লাইট ফ্যান এয়ার কন্ডিশন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করতে হবে।
অফিসের বাইরে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
সরকারি নির্দেশনা পথ ব্যতিরেকে সকল প্রকার আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
বিশেষ করে জ্বালানি ব্যবহারের সাশ্রয় হতে হবে।
সরকার শুধুমাত্র জরুরি সেবার জন্য খাবার হোটেল ও ওষুধ সামগ্রীর দোকান খোলা থাকার কথা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলার ৯ নম্বর আমতলী ইউনিয়নের ওয়াবদারহাট বাজারের বাজার কমিটির অন্যতম সদস্য ও ফার্মেসি ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে মুদি ব্যবসায়ীদের একটি করে দোকান প্রতিটি বাজারে খোলা রাখার ওপরে জোর দাবি জানাচ্ছি। যাতে মানুষ জরুরি প্রয়োজনে নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজন মেটাতে পারে।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এই জ্বালানি সঙ্কট খুব দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে। এরপরেও বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সাথে সাথে অবৈধ মজুদের মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কোথাও যদি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সাথে সাথে তাকে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



