সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে পুলিশ সাকিব মিয়া (১৪) ও রিসাল মিয়া (১৪) নামে দুই কিশোরকে আটক করেছে। টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে অভিযুক্তদের পরিবারের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যার পর তাহিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার কলাগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করে।
আটক সাকিব মিয়া উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের আল আমিনের ছেলে এবং রিসাল মিয়া একই এলাকার রনি মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামে ভিকটিমের বাড়ির পেছনের টয়লেটে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে ধর্ষণকারী দুই কিশোর শিশুটিকে টয়লেটে ফেলে রেখে চলে যায়।
এ ঘটনা শিশুটির পরিবার জানার পর ধর্ষণকারীদের পরিবারের লোকজন শিশুটিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয় এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তারা এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।
জানা যায়, এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওই দুই কিশোর মিলে বসত ঘরের ভেতর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়। ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতে সাহস পায়নি বলে জানিয়েছেন ভিকটিম শিশুটির নানি।
ধর্ষণের ঘটনাটি শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটির নানির বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ধর্ষণকারীর পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর থেকে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতেও বাধা দিচ্ছে ধর্ষণকারীদের পরিবার।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির নানি আমাকে জানিয়েছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর নানি এসেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।



