কুমিল্লা মেডিক্যাল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : খুলনায় পিতা-মাতার আহাজারি

অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান মোবাইল ফোনে জানান, তার বোন কিছুটা চাপা স্বভাবের ছিল। মাঝে মাঝে কলেজের এনাটমি বিভাগের শিক্ষক ডা. মনিরা জহিরের আচরণ নিয়ে কথা বলত। তার দাবি, প্রথম বর্ষ থেকেই বোনটি মানসিক চাপে ছিল।

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
অর্পিতা নওশিন
অর্পিতা নওশিন |নয়া দিগন্ত

খুলনা ব্যুরো

“মেয়ের শখ পূরণে কষ্ট হলেও তাকে বেসরকারি মেডিক্যালে ভর্তি করিয়েছি। ছোট মেয়ে হিসেবে যা চেয়েছে, তাই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনেক আশা ছিল, মেয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। কী কারণে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল, এখনও বুঝতে পারছি না”—কথাগুলো বলতে বলতে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন অর্পিতা নওশীনের বাবা আনোয়ার হোসেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খুলনা নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডের নিজ বাসায় বসে তিনি এসব কথা বলেন। আনোয়ার হোসেন খুলনা জেলা প্রশাসনের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল তার পরিবার। বড় ছেলে শাহরিয়ার আরমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ছোট মেয়ে অর্পিতাকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্নে ভর্তি করানো হয় কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজে।

এদিন তাদের বাসায় স্বজনদের ভিড় ছিল। সবাই শোকাহত বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে তারা নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন; মাঝেমধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।

স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই দুই ভাই-বোন মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ায় অর্পিতাকে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়।

অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান মোবাইল ফোনে জানান, তার বোন কিছুটা চাপা স্বভাবের ছিল। মাঝে মাঝে কলেজের এনাটমি বিভাগের শিক্ষক ডা. মনিরা জহিরের আচরণ নিয়ে কথা বলত। তার দাবি, প্রথম বর্ষ থেকেই বোনটি মানসিক চাপে ছিল।

তিনি আরো বলেন, “গত বৃহস্পতিবারও ওর সাথে কথা হয়েছে। ফরম ফিলাপের জন্য টাকা চেয়েছিল। বলেছিল, বাসায় বলতে পারছে না, আমাকে ব্যবস্থা করতে। আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। কিন্তু এমন খবর পাব, তা কখনও ভাবিনি।”

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশীনের মরদেহ শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় কলেজ সংলগ্ন ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অর্পিতা খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে তিনি কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজের ১৮তম ব্যাচে ভর্তি হন।