মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ছেংগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একেবারে সামনে গড়ে উঠেছে একটি বড় ময়লার ভাগাড়।
বিদ্যালয় ও মসজিদের মূল ফটকের সামনের ডোবায় জমে থাকা এই ময়লা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও জীবাণু, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খুদে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও পথচারীদের জন্য।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের ময়লার স্তূপের পাশ দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
পচা আবর্জনা, পলিথিন, নোংরা পানি আর মশা-মাছির ভিড়ে এলাকাটি এখন কার্যত এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় গবাদিপশুকে ময়লার স্তূপে খাবার খুঁজতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরো শঙ্কাজনক করে তুলেছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, ময়লার দুর্গন্ধে শিশুদের বমিভাব, মাথাব্যথা ও নানা ধরনের চর্মরোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তখন ডোবায় জমে থাকা নোংরা পানি থেকে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের আশঙ্কা বাড়ে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু একবার ময়লা পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন নির্ধারণ, নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে কিছুদিন পর আবারো একই অবস্থা ফিরে আসবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার সামনে এমন ময়লার ভাগাড় শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান আনতে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
ছেংগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জুনায়েদ জানান, বিদ্যালয়ের সামনে ময়লার ভাগাড় থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত পরিষ্কার ও স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হবে।
ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সামনে এভাবে ময়লার ভাগাড় থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবাণুর ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আশপাশের পরিবেশ শিক্ষাবান্ধব হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে কথা বলে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব।’
মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘বিদ্যালয় ও মসজিদের সামনে ময়লার ভাগাড় থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। খুব শিগগিরই পৌরসভা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নতা বিভাগের মাধ্যমে ময়লা অপসারণ ও স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



