মেঘনায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা জেলে পল্লীতে নেই ঈদের আমেজ

নদীতে নামতে না পারায় অধিকাংশ জেলে এখন কর্মহীন সময় পার করছেন। অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে অনেক জেলে ও মাল্লা।

হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন (ভোলা)

Location :

Bhola
ঈদের আমেজ নেই জেলে পল্লীতে
ঈদের আমেজ নেই জেলে পল্লীতে |নয়া দিগন্ত

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীতে দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলে পল্লীগুলোতে এবার ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান। নিষেধাজ্ঞা থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার জেলে। ফলে ঈদকে ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা, তার পরিবর্তে জেলে পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে নীরবতা আর হতাশা।

মেঘনা নদীর বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ রয়েছে। অভিযানের কারণে নদীতে নেই জেলেদের সেই চিরচেনা ব্যস্ততা। ঘাটে সারি সারি নৌকা বেঁধে রাখা, জালগুলোও পড়ে আছে অযত্নে নৌকার মধ্যে।

নদীতে নামতে না পারায় অধিকাংশ জেলে এখন কর্মহীন সময় পার করছেন। অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে অনেক জেলে ও মাল্লা।

জেলে পল্লীর বাসিন্দারা জানায়, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের প্রধান আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। মেঘনা নদীতে মাছ ধরে প্রতিদিনের আয়েই যাদের সংসার চলে, সেই পরিবারগুলো এখন পড়েছে চরম আর্থিক সঙ্কটে। ঈদ সামনে থাকলেও নতুন পোশাক, ভালো খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় বাজার করার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। তজুমদ্দিনে মোট নিবন্ধীত জেলে রয়েছে ১৯ হাজার ৯২৭ জন।

স্থানীয় জেলে মো: নাছির মাঝি বলেন, ‘মাছ ধরতে না পারায় নিষেধাজ্ঞার এক মাস ধরে আয় নেই। সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চাদের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনে দেয়ার সামর্থ্যও নেই। তাই এবার ঈদে আমাদের কোনো আনন্দ নেই।’

তার মতো আরো অনেক জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। পরিবারের সদস্য বেশি হওয়ায় অল্প কয়েক কেজি চাল দিয়ে মাস পার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নিয়েও চিন্তা করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আমির হোসেন বলেন, ‘ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে জেলেদেরই উপকারে আসে। এই সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা এই সময়টুকু কিছুটা স্বস্তিতে পার করতে পারেন।’

উল্লেখ্য ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারো মেঘনার বুকে জাল ফেলতে পারার আশায় দিন গুনছেন নদী তীরের জেলে পরিবারগুলো। তাদের প্রত্যাশা, নদীতে মাছ ধরা শুরু হলে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে এই জনপদ, ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া হাসি আর উৎসবের আনন্দ।